• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন

নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ২০ কলোনির বাসিন্দারা

স্টাফ রিপোর্টার / ১১০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

প্রায় ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ২০০২ সালে গঠন হয় বরিশাল সিটি করপোরেশন। প্রায় পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এ নগরীতে ওয়ার্ড রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে ৫, ৬, ৭, ৯ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২০টি কলোনি রয়েছে, যেগুলোকে স্থানীয়ভাবে বস্তি এলাকা বলা হয়। এসব কলোনিতে বাস করে এক লাখের বেশি মানুষ। তবে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না তারা।

কলোনির বাসিন্দারা বলছেন, বৃষ্টি কিংবা জোয়ার এলেই কলোনিগুলোর রাস্তাঘাট ডুবে যায়। বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির সংকট তাদের নিত্যসঙ্গী। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উন্নয়ন সংস্থাগুলো কলোনির উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী সংস্থাটির কাজের কিছু পরিধি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সিটি করপোরেশন নগরীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য দায়ী থাকবে এবং এ-সম্পর্কিত কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকলে সেটিও নেবে। এছাড়া অস্বাস্থ্যকর ইমারতের ব্যবস্থাপনায় পদক্ষেপ গ্রহণ, আবর্জনা অপসারণ, সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা, পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা ও পর্যাপ্ত টয়লেট স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা করবে করপোরেশন। নগরীতে সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, এর জন্য প্রয়োজনে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করাও সিটি করপোরেশনের কাজের পরিধির মধ্যে রয়েছে। পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশন, প্রয়োজনীয় রাস্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে করপোরেশন।

নগরীর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত পলাশপুর কলোনি। উত্তর-পূর্বাংশে কীর্তনখোলার তীরঘেঁষে জেগে ওঠা চরবদনা-আমানতগঞ্জ মৌজার চর এলাকা নিয়ে পলাশপুর কলোনি গড়ে উঠেছে। তবে এটি গুচ্ছগ্রাম নামেও পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে কীর্তনখোলা নদীর জোয়ারে ঘনবসতিপূর্ণ পলাশপুর গুচ্ছগ্রাম হাঁটুসমান পানিতে ডুবে যায়। ৩০-৪০ বছর ধরে বাস করলেও জমির স্বীকৃতি পাননি অধিকাংশ বাসিন্দা। খানাখন্দে ভরা সড়কগুলোও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অনেকটা লুকোচুরি করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, কলোনির মধ্যে আটটি গুচ্ছগ্রাম রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস করছে সেখানে। প্রত্যেক পরিবারের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ শতাংশ করে জমি। তবে ৪৪৪টি পরিবার ছাড়া বাকিরা জমির বৈধতা পায়নি।

গুচ্ছগ্রাম সমন্বয়কারী মো. গাফফার বলেন, ‘তিনটি গুচ্ছগ্রামে বসবাস করা ৪৪৪টি পরিবারকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২ শতাংশ করে খাসজমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেখানকার ১ হাজার ৩০০ পরিবারের জমির স্বীকৃতি না থাকায় তারা বৈধ উপায়ে বিদ্যুৎ সুবিধাও পাচ্ছে না।’

পলাশপুর কলোনির বাসিন্দারা বলছেন, সারি সারি বসতবাড়ির মধ্য দিয়ে তৈরি সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। চারদিকে ময়লার গন্ধে নাক চেপে চলাচল করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে কীর্তনখোলার জোয়ারে এলাকাটি ডুবে যায়। ভাটার সময় পানি নামলেও আটকে পড়া পানিতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাইনুল হক বলেন, ‘কীর্তনখোলায় জেগে ওঠা চরের খাসজমিতে পলাশপুর কলোনি গড়ে উঠেছে। জমির মালিকানা না থাকায় অনুমোদন ছাড়াই যে যার মতো ঘর তুলে বাস করছে। ফলে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি। জলাবদ্ধতাও নিরসন হচ্ছে না দীর্ঘ কয়েক যুগে।’

কীর্তনখোলা নদীতীরে গড়ে ওঠা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত রসুলপুর কলোনিতে বাস করছে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। ছোট্ট একটি খাল নগরী থেকে এ কলোনিকে আলাদা করে রেখেছে। এখানকার রাস্তাঘাটের অবস্থাও বেহাল। সুপেয় পানির তীব্র সংকট। নদীঘেঁষে গড়ে ওঠায় বৃষ্টিতে বা জোয়ারে ডুবে যায় রসুলপুরের একাংশ। নগরীর কেডিসি, বালুরমাঠ, স্টেডিয়াম, ভাটারখাল ও কলাপট্টি কলোনিতেও একই চিত্রই দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি হারুন ভাণ্ডারী বলেন, ভূমিহীনদের খাসজমি প্রদান, ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তারা দুই যুগ ধরে আন্দোলন করে আসছেন। রসুলপুরে নিদারুণ কষ্টে আছে হতদরিদ্ররা। নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেডিসি কলোনিরও একই অবস্থা।

বস্তি এলাকা নিয়ে কাজ করেন কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু। তিনি বলেন, ‘নগরীর কলোনিগুলোয় ভূমি দখলকারীরা প্রক্সি দেয়ার মতো লোক রাখে। তাই স্থায়ীভাবে সেখানে মানুষের বসতি গড়ে উঠছে না। রাস্তা নেই, বিদ্যুৎ নেই, সুপেয় পানির সংকট। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাও তেমন স্বাস্থ্যসম্মত নয়। করপোরেশনের নামে বস্তির উন্নয়নে যেসব প্রকল্প আসে, কাউন্সিলররা তা নিয়ে নয়-ছয় করেছেন। ফলে বস্তিবাসীর জীবনমানের কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।’

সার্বিক বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সমাজ ও উদ্বাস্তু উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রাসেল খান বলেন, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে করপোরেশনের আওতাধীন ২০টি কলোনিতে উন্নয়নকাজ পরিচালনা করা হয়। তবে বর্তমানে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি ও ইউনাইটেড নেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম প্রকল্পের কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কলোনিগুলোয় নাগরিক সুবিধা অনেকাংশে বেড়েছে। রাস্তাঘাটেরও উন্নয়ন করেছে করপোরেশন। সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় উন্নয়ন হয়নি, সেগুলো চিহ্নিত করে আগামীতে উন্নয়নকাজ করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/