তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “গণমাধ্যম সমাজের আয়না। সমাজের সমস্যা, সম্ভাবনা ও বাস্তবতার প্রতিফলন গণমাধ্যমে উঠে আসে। তাই সংবাদ পরিবেশনে যেন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি কোনোভাবেই বিকৃত না হয়।”
রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশনার ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, মেলা থেকে কেনা সস্তা আয়নায় যেমন নিজের চেহারা বিকৃত দেখা যেতে পারে, তেমনি গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনে বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি বিকৃত হলে জনগণ প্রকৃত চিত্র থেকে বঞ্চিত হবে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করা এবং মানুষের প্রত্যাশা ও সমস্যার কথা যথাযথভাবে তুলে ধরা গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে এমন একটি স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য আয়না হিসেবে কাজ করতে হবে, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হবে। সমাজের বাস্তব চিত্র কোনো ধরনের বিকৃতি বা পক্ষপাত ছাড়াই জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একজন সাংবাদিককে অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকর্মী হতে হবে। সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা না থাকলে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। সঠিক তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা হলে শুধু সাংবাদিক নয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরাও জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারেন।
তিনি আরও বলেন, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই, সত্যতা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আনুগত্যের চেয়ে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকেই সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা, সত্যনিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্রমেই কমে যাবে।
জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দেশের মালিক হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। তাই জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আচরণে জনগণের সেবকের মানসিকতা থাকতে হবে। ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়; বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করার একটি আমানত।
তিনি বলেন, জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে এবং বরিশাল প্রেস ক্লাবের সদস্য দেবাশীষ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের অধ্যাপক আকতারুজ্জামান, বরিশাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক আক্কাস, বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মো. শহীদুল্লাহ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মিরাজ মাহমুদ, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আযাদ আলাউদ্দিন, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুরাদ আহমেদ, বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মীর জাহিদুল কবীর এবং মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরীন।
এ সময় লেখক, কলামিস্ট, বরিশালের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/