দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য দূর করতে এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ‘একক ও অভিন্ন’ প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
প্রশ্নফাঁসের যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চালাকি কঠোর হস্তে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার প্রশ্নফাঁসের কোনো রকম চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যা দেখে অন্য অপরাধীরা আজীবন শিক্ষা পাবে।’
গতকাল আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড।
মন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্বে যদি “ও লেভেল” বা “এ লেভেল” পরীক্ষা একই প্রশ্নে হতে পারে, তবে আমাদের দেশে বোর্ড ভেদে আলাদা প্রশ্ন কেন হবে? বোর্ডের চেয়ারম্যানরা আগে বলতেন–প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কায় তারা আলাদা প্রশ্ন করেন। আমি বলেছি, প্রশ্নফাঁসই হতে দেয়া হবে না। কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন সহজ আর অন্য বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন–এ জিপিএ বৈষম্যের মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্ত করতেই আমরা একক ও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এবার এইচএসসি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বিগত সরকারের আমলের শিক্ষার করুণ চিত্র ও ঢালাও পাসের সমালোচনা করে ড. মিলন বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলের নীতি ছিল–না পড়ে, নকল করে, ইন্টারনেটের সহায়তায় খাতায় বেশি নম্বর দিয়ে পাস করিয়ে দাও। এভাবে পাস করে যারা ডাক্তার হয়েছেন, তারা যদি কোনো অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা দিতে যান, তবে রোগীকে সামনে রেখেই তাদের নতুন করে বই পড়তে হবে। মেধার কোনো বিকল্প নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘বিগত সরকারের “কর্তার ইচ্ছায় কর্ম” নীতির কারণে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে সবাইকে পাস করিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার লেখাপড়ার মান ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর। আমরা যোগ্যতার নামে ক্ষমতায় বসে থাকতে চাই না, যে ক’দিন থাকব সিংহের মতো চলব, শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে ছাড়ব।’
তিনি কেন্দ্র সচিব ও কর্মকর্তাদের সারা দেশে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কোনো পরীক্ষার্থীকে অন্যায় সুবিধা না দেয়ারও নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষার সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শুধু নকল প্রতিরোধ নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ব্যবস্থার বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন উর রশিদ, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুছ আলী সিদ্দিকী, কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান। এছাড়া মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বরিশাল অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
https://slotbet.online/