বরিশালে অটোরিকশা চালক নাজমুল মোল্লা (২৫) হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার একজনের বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে মিরাজ হোসেন শুভ নামক একজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এ খবর জেনে আজ বুধবার ১৭ জুন সকাল ৯টার দিকে বিক্ষুদ্ধ জনতা মিরাজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে টিনশেড ঘর পুড়ে হয় ছাই। বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হরিণাফুলিয়ায় এ ঘটনা হয়।
র্যাব- ৮ মঙ্গলবার রাতে মিরাজকে গ্রেফতার করে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে শতাধিক জনতা মিরাজ-রিয়াজদের বাড়িতে হামলা ও একপর্যায়ে বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময়ে তাদের মা ফরিদা বেগম ও রিয়াজের স্ত্রী কারুন্নাহার (৩২) পালানোর চেষ্টা করলে তাদের জনতা আটক করে। পরে তাদের পুলিশের সোপর্দ করা হয়।
নিহত নাজমুলের বাবা আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, মিরাজদের বাড়িতে ঢুকতে একটি বাঁশের সাকো রয়েছে। গ্রামের লোকজন সাকোর হাতলে রক্তের দাগ দেখতে পেয়েছে। বাড়ির মধ্যে ঢুকে নাজমুলকে হত্যার নানা আলামত দেখতে পায়। এতে গ্রামবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে তাদের বাড়িতে আগুন দেয়।
হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন জানান, নাজমুলকে হত্যার ঘটনায় তার পিতা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে হত্যাকারী হিসাবে একই এলাকার তিন সহোদর মিরাজ, রিয়াজ ও ইমরানকে সন্দেহ করা হচ্ছিল। এলাকার লোকজন তাদের নজরদারিতে রেখেছিল। বুধবার সকালে তাদের বাড়িতে আগুন দিলে বাড়িটি পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়।
বিল্লাল জানান, মিরাজকে র্যাব এবং সাইফুল ইসলাম, ফরিদা বেগম ও কামরুন্নাহার নামক ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তাদের সকলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নাজমুল মোল্লা গত শনিবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হবার পর নিঁখোজ হয়। সোমবার সকালে বাড়ির অদূরে কালিজিরা নদীতে বস্তাবন্দী তার মরদেহ উদ্ধার হয়। ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশার ছিনতাইয়ের জন্য তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।