• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন

বরিশালে নতুন ইপিজেড, ২ জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল

স্টাফ রিপোর্টার / ১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশালে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওবায়দুল হক চান বলেন, ইপিজেড হলে কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। বরিশাল থেকে ইলিশ, আমড়া ও পেয়ারা রপ্তানি করা হয়। এছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি বড় শিল্পকারখানা রয়েছে, যেখানে কাঁচামাল আমদানি করা হয়।

ইপিজেড হলে আমদানি ও রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন। সরকারের এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই।ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ জমি তিন জেলাতেই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা জানিয়েছেন। তারা বলেন, সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে বড় ধরনের জটিলতা হবে না।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খাইরুল আলম সুমন বলেন, একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব আমরা লিখিতভাবে দিয়েছি। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, এখানে খাস খতিয়ানের পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করব।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়িত হলে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প এবং পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে কাঁচামাল ও শ্রমশক্তির সহজলভ্যতার কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে। এ লক্ষ্যেই পিরোজপুরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/