মৎস্য আহরণে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৪ জেলার মৎস্যজীবীদের মধ্যে চাল বিতরন করেছে সরকার। সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫৮ দিনে প্রায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের মধ্যে ২৪ হাজার টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সংরক্ষণ নিশ্চিতে সরকার ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন মোট ৫৮ (আটান্ন) দিন দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ করেছিল। নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমের আওতার অন্তর্ভুক্ত ছিল চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪ জেলা।
এ সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা, ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা, ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রযাত্রার অনুমতি দেয়া বন্ধ রাখা হয় এবং বরফকলসমূহে নিয়ন্ত্রিত বরফ উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়।
এ সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে জেলে ও যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় অভিযান কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচালিত হয়েছে।
অভিযানে ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ দশমিক ৯৪৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া নিলাম থেকে আয়কৃত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়িত হয়েছে।
https://slotbet.online/