• শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন

খেয়াঘাটে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া / ২০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নির্ধারিত থাকলেও বছরের পর বছর ১০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। ঈদের সময় কিংবা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা পর্যন্ত। এতে সাধারণ যাত্রীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় গোলবুনিয়া গ্রামের গাজীবাড়ির একটি প্রভাবশালী চক্র খেয়াঘাটটি নিয়ন্ত্রণ করছে। যাত্রীরা ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এমনকি গত বছর এক শিক্ষককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খেয়ার চালকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পথে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ যাত্রী পারাপার হন। প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে ৫ টাকা করে অতিরিক্ত আদায় করা হলে দৈনিক প্রায় ২ হাজার টাকা, মাসে ৬০ হাজার টাকা এবং বছরে অন্তত ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।এটা সম্পূর্ণ জুলুম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে অবৈধ ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, তা এখনও বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই অনিয়ম বন্ধ হয়নি। ফলে ক্ষোভ থাকলেও অপমান ও হয়রানির ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
সম্প্রতি ভাড়া নিয়ে এক যাত্রীর সাথে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে খেয়ার মাঝি ও ভাড়া আদায়কারী রাকিবুল গাজী বলেন, ‘আগেও ১০ টাকা নিছে, আমরাও ১০ টাকা নিচ্ছি। এর বাইরে কোনো কথা নেই।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, খেয়াঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় লুডু খেলায় ব্যস্ত থাকেন। খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়। রাত ৮টার পর ভাড়ারও কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না; যার কাছ থেকে যতটা সম্ভব আদায় করা হয়।
যাত্রী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সোনাতলা নদীতে ফুলবুনিয়া, রাজ্জাক সিকদার বাড়ি, বাইনতলা ও আরামগঞ্জ—এই চারটি খেয়াঘাটসহ অন্যান্য খেয়ায় জনপ্রতি ৫ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। অথচ একই নদীর তেগাছিয়া খেয়াঘাটে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা। শুধু তাই নয়, উপজেলার অন্যসব খেয়াঘাটে ভাড়া ৫ টাকা, কিন্তু তেগাছিয়ায় ব্যতিক্রম।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কলাপাড়া উপজেলার মোট ২০টি খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এরমধ্যে তেগাছিয়া খেয়াঘাটের ইজারা নিয়েছেন মো. হারেচ গাজীর ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন।
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো কাউছার হামিদ বলেন, ‘বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঐ ইজারাদারকে অফিসে ডাকা হয়েছে।শুধু এই খেয়াই নয়, প্রত্যেকটি খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের নির্ধারিত রেটচার্ট টানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং খেয়াঘাটে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/