বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় জেলেদের জালে একটি অজানা যন্ত্র পাওয়া গেছে। রোববার বিকালে উপজেলার বলেশ্বর নদীর মোহনায় মিরাজ মিয়ার মালিকানাধীন একটি ট্রলারের জালে যন্ত্রটি আটকা পড়ে। সোমবার ঘটনাস্থলে গিয়ে যন্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার এএসআই মো. এনামুল।
জেলে মিরাজ হোসেন জানান, গভীর সমুদ্রে জাল তোলার সময় হঠাৎ একটি অচেনা বস্তু জালে আটকে যায়। প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। পরে কাছে গিয়ে দেখেন, এটি সাধারণ কোনো ভাসমান বস্তু নয়। বস্তুটির সঙ্গে বিমানের ডানাসদৃশ ও পাখার মতো অংশ রয়েছে।
জালে আটকে যাওয়ার সময় এটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা সতর্কতার সঙ্গে সেটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া যন্ত্রটি ফাইবার জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি, ভেতরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, সেন্সর, অ্যান্টেনা এবং নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের মতো যন্ত্রাংশ দেখা গেছে। এ কারণে অনেকের ধারণা, এটি সমুদ্র গবেষণা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ বা সামুদ্রিক জরিপ কাজে ব্যবহৃত কোনো ড্রোন বা রোবোটিক যন্ত্র হতে পারে। তবে এটি কোথা থেকে এসেছে এবং কী কাজে ব্যবহৃত হতো, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। রহস্যময় বস্তুটির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, পরে যন্ত্রটি খুলে ভেতরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, সেন্সর ও অ্যান্টেনার মত অংশ দেখা যায়।
এএসআই এনামুল বলেন, যন্ত্রটি পাওয়ার পর জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে এটি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। এর ভেতরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক অংশ রয়েছে। তিনি বলেন, পরীক্ষার পর জানা যাবে এটি আসলে কী ধরনের যন্ত্র এবং কোথা থেকে এসেছে।
কেউ এটিকে সমুদ্র গবেষণার যন্ত্র বলছেন, আবার কেউ কোনো বিদেশি সংস্থার সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ ডিভাইস বলে ধারণা করছেন।
বঙ্গোপসাগরে এমন রহস্যময় প্রযুক্তিগত যন্ত্রের উপস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে জানালেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) সাঈদ আহমেদ চৌধুরী। কারণ এর সঙ্গে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গবেষণা এবং সমুদ্রসম্পদ পর্যবেক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে । সাঈদ আহমেদ চৌধুরী আরো জানান, যন্ত্রটি লম্বায় ৬ ফুট, প্রস্ত দেড় ফুট হবে।
https://slotbet.online/