বর্ষা শুরুর আগেই ভয়াল মেঘনার তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নে। এদিকে নদী ভাঙ্গন থেকে জমি ও বসত ভিটা রক্ষার দাবীতে মানববন্ধন করেছে উলানিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা। আজ ১ মে শুক্রবার বিকালে মেঘনার পাড়েে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বৃহত্তর উলানিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম মিটন চৌধুরী, মো. হাবিব হাওলাদার, ইউনিয়ন জামায়াত আমীর আবুল কালাম আজাদ, জাকির হোসেন পান্না, মাহাতাব উদ্দিন ফরিদ, কালীগঞ্জ ব্যবসায়ী জামাল ভূইয়া, তারেক তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল রাঢ়ী, মাছঘাট ব্যবসায়ী মনির হোসেন তালুকদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বর্ষার আগেই যেভাবে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে আমাদের পুরো ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হবে। তারা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সেতু বিভাগ ও নৌ-মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান রাজিব আহসান এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে উলানিয়ার ৬টি ওয়ার্ড আশা ৬, ৭পুর্বসুলতানী ৮, ৯ পশ্চিম সুলতানী ৫ জাদুয়া ৪ নং ওয়ার্ডের শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফসলি জমি, মসজিদ, মাদরাসাসহ সরকারি-বেসরকারি বহু স্থাপনাও গ্রাস করেছে সর্বনাশা মেঘনা। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে প্রায় ১০ হাজার পরিবার।
যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হতে পারে উলানিয়া মুজাফফর খান ডিগ্রি কলেজ, সুলতানী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব তেতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালীগঞ্জ ও লালগঞ্জ বাজার। এসব প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গনের একেবারে কিনারায় চলে এসেছে। বাজার দুটি বিলীন হলে হাজারো মানুষের জীবিকা হুমকিতে পড়বে।
বসতভিটা হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে অনেক পরিবার। ভাঙ্গনের মুখে থাকা সফুরা খাতুন বিলাপ করে বলেন, ঘরডা ভাঙতে আছে। পোলাপান নিয়া কই যামু? আমি বাঁচতে চাই। আমাগোরে বাঁচান। তার মতো শত শত মানুষের চোখে-মুখে এখন শুধুই উৎকণ্ঠা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ উলানিয়ার ভাঙ্গনের বিষয়টি আমরা অবগত। ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রতিদিনই একটু একটু করে মেঘনা গ্রাস করছে দক্ষিণ উলানিয়াকে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বর্ষায় মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে একটি জনপদ।
এ রকম আরো সংবাদ...