• বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
ইশরাকের পথে হেঁটে বিপাকে বরিশাল বিএনপি নেতা ফারুক! বরিশাল পুলিশ সুপারের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ বরিশালে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাশে থাকার আশ্বাস বিএম কলেজের বনমালী ছাত্রীনিবাসে মধ্যরাতে বহিরাগত অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তাহীনায় ভুগছে শিক্ষার্থীরা। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কনসার্টে ছাত্রদলের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত কলেজের অধ্যক্ষ বরিশালে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতেও টনক নড়েনি কলেজ প্রশাসনের! ১৪ দিনের দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর আবাসনসংকটে ৪ সরকারি কলেজ, মেসের খরচে হিমশিম নিম্নবিত্তরা বিএম কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

ইশরাকের পথে হেঁটে বিপাকে বরিশাল বিএনপি নেতা ফারুক!

দর্পন ডেস্ক / ২৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬

মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের পেটানো, সেই দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, এরপর বিতর্কিত বক্তব্য সব মিলিয়ে চাপে পড়েছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মাদক নির্মূলের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কি কোনো রাজনৈতিক নেতার আছে?

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ফারুক। একপর্যায়ে দুই যুবককে চড়-থাপ্পড় মারতে এবং কয়েকজনকে প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।

মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব নাভিদ রহমান তুষারের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মাদক সেবনের অভিযোগে চারজনকে আটক করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মুরব্বি ও অভিভাবকদের অনুরোধে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অভিযানের আগে পুলিশকে জানানো হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।

ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ফারুকের নিজের বক্তব্য। আটক ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে কী করব, তারা তো ছেড়ে দেয়। তাই উত্তমমাধ্যম দিয়ে আমরাও ছেড়ে দিয়েছি।’

এই বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে কাউকে মারধরের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার এই যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আমানতগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপ-পরিদর্শক) এসআই রেজাউল ইসলাম রেজা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অভিযানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশালের উপ-পরিচালক মো. তানভীর হোসেন খানও অনুরূপ তথ্য দিয়েছেন। কর্মকর্তা বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়া এ ধরনের অভিযান পরিচালনার সুযোগ নেই।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আকন কুদ্দুসুর রহমানের বক্তব্যেও প্রশাসনের ভূমিকাই গুরুত্ব পেয়েছে। এই নেতার মতে, মাদক নির্মূলে নেতা-কর্মীরা পুলিশকে সহায়তা করতে পারেন, কিন্তু অভিযান পরিচালনা করবে প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু আল রায়হানও বলেছেন, মাদকসহ কাউকে আটক করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান ঘিরে বিতর্কে ঢাকার বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় আসছে। সম্প্রতি ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়া এবং পিস্তল হাতে থাকার ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চাওয়ার ঘোষণা দেন।

ইশরাকের ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই বরিশালে ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দুই ঘটনার প্রেক্ষাপট এক না হলেও মাদকবিরোধী তৎপরতায় রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা, আইন প্রয়োগের সীমা এবং প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুককে ঘিরে গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ছে। একই সঙ্গে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পক্ষের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও সমালোচনাও চোখে পড়ছে।

এখন বড় প্রশ্ন হচ্ছে, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ফারুকের বক্তব্যের বাইরে আর কী ব্যাখ্যা সামনে আসে, বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না এবং প্রশাসন ঘটনাটি খতিয়ে দেখে কি না। মাদকবিরোধী অভিযানের নামে আটক ব্যক্তিদের মারধরের এই ঘটনা শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ইশরাকের ন্যায় পরিণতি ফারুকেরও হয় সেই বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/