অজানাকে জানার সুযোগের পাশাপাশি প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তুলতে বরিশালে নির্মাণাধীন নভোথিয়েটারের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষণ ও বিনোদন কেন্দ্রটির প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে।
যদিও গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই নভোথিয়েটারটি চালু করা সম্ভব হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম বলেন, বরিশাল নভোথিয়েটার একটি আইকনিক প্রকল্প। প্রথমে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪১২ কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৪৬০ কোটি টাকা করা হয়। বর্তমানে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সব কাজ শেষ হবে।
প্রকল্প প্রকৌশলী মো. রেজাউল বলেন, নদীর পাড়ে হওয়ায় বর্ষাকালে কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়েছে। জায়গাটি ছিল ঢালু, ফলে সাইট প্রস্তুত করতেই প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। তবে বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ভেতরের কাজ শেষ, বাইরের কাজ চলছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।
প্রকল্প এলাকায় সাধারণ মানুষের ভবন অপসারণসহ নানা জটিলতায় কাজ দেরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে এখন দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, প্রকল্পের বৈদ্যুতিক কাজের ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সাবস্টেশনের যন্ত্রপাতি সাইটে রয়েছে। ফায়ার সেফটির ভেতরের সব কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে ইকুইপমেন্ট কমিশনিং শেষে প্রকল্প হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা বলেন, নভোথিয়েটারটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা মহাকাশবিষয়ক প্রদর্শনী, ৫-ডি এডুটেইনমেন্ট সিমুলেটর, ডিজিটাল এক্সিবিশন গ্যালারি ও ৫-ডি মুভি থিয়েটার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে। এ ছাড়া মহাকাশ গবেষণার জন্য এখানে বিশ্বের অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ স্থাপন করা হবে। জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় কিছুটা দেরি হলেও আগামী বছর এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
শুধু মহাকাশ গবেষণা নয়, শিশুদের বিনোদনের বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। এখানে মহাকাশবিজ্ঞানভিত্তিক স্থাপনার পাশাপাশি থাকছে ছয়টি শিশু পার্ক, ছয়টি দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য ও আধুনিক শিশু রাইড। অপরদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, বরিশালের নভোথিয়েটার চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য মহাকাশ গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম বলেন, নভোথিয়েটারের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। একইসঙ্গে বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
https://slotbet.online/