• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম

কোটি টাকার বিদ্যুৎ নষ্ট হচ্ছে রাস্তায়

দর্পন ডেস্ক / ৭৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও সরবরাহ, ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ঘন ঘন লোডশেডিং, শিল্প খাতে বিদ্যুৎ সংকট এবং ভর্তুকির চাপ— সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ খাত একটি নাজুক ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রেক্ষাপটে আলোচনার আড়ালে থেকে যাওয়া, কিন্তু দ্রুত বিস্তৃত একটি খাত হলো ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান।

শহর থেকে গ্রাম— সব জায়গাতেই এই বাহনের বিস্তার ঘটেছে দ্রুতগতিতে। একদিকে এটি মানুষের চলাচল সহজ করছে, অপর দিকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে জাতীয় গ্রিড, অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর বড় অংশই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অদক্ষ প্রযুক্তি এবং অবৈধ সংযোগের কারণে কার্যত অপচয়ে পরিণত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান এখন বাংলাদেশের পরিবহন বাস্তবতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু পরিকল্পনাহীন বিস্তার, অদক্ষ প্রযুক্তি এবং অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে এটি ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ খাতের জন্য বড় বোঝা হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যানের নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যান নেই। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট খাতের ধারণা অনুযায়ী, দেশে প্রায় এক কোটির বেশি এমন যান চলাচল করছে, যার বড় অংশই অনিবন্ধিত।

প্রতিটি যান গড়ে দৈনিক ৪ থেকে ৬ ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। সে হিসাবে অন্তত ৮০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ভ্যান হলে এর পেছনে প্রায় ৪ কোটি ইউনিটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে।

অর্থাৎ, একটি বড় আকারের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমপরিমাণ বিদ্যুৎ প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে শুধু এই খাতে। তবে এর বড় অংশই আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫-১৬ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। কিন্তু জ্বালানি ঘাটতির কারণে প্রায়ই ২৫০০-৩০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই সংকটের মধ্যেই ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এই খাতের বড় সমস্যা হলো পরিবহন আইনে স্পষ্ট অবস্থান নেই। বিদ্যুৎ ব্যবহারে আলাদা নীতি নেই। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ দুর্বল। ফলে একটি ‘গ্রে এরিয়া’ তৈরি হয়েছে—যেখানে ব্যবহার আছে, কিন্তু কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যয়ের পাশাপাশি হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয়—এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এখনই সঠিক নীতিমালা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এই খাত বোঝা নয়, বরং টেকসই ও দক্ষ পরিবহন ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/