এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ বোমাবর্ষণ, হুমকি-পাল্টা হুমকি আর কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে থামল বন্দুকের নল। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে — যদিও এই চুক্তি কতটা টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত
ট্রাম্প জানান, তিনি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে বোমাবর্ষণ ও হামলা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন, যদি তেহরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে বলেন, সমস্ত সামরিক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলেই তিনি এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছেন।
ইরান দুই সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে রাজি হয়েছে, যেখানে ইরানি সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে জাহাজ পারাপার হবে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যিনি এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করছেন, বুধবার ভোরে ঘোষণা করেন যে যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। এর আগে পাকিস্তান রোববার রাতে দুই ধাপের একটি প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠিয়েছিল — প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং দ্বিতীয় ধাপে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি।
ইরানের ১০ দফা দাবি
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে: ইরান, ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি; নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি; ইরানের জমানো সম্পদ ও হিমায়িত তহবিল মুক্তি; পুনর্নির্মাণ খরচ বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান। এছাড়া ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার অঙ্গীকারও করেছে।
ইসরায়েলের অবস্থান
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরায়েল ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে — তবে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, যেখানে ইসরায়েলি স্থল সেনারা এখনো সক্রিয়। ট্রাম্পের ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলে বিমান হামলার সাইরেন বাজে এবং আইডিএফ জানায় তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পাকিস্তান শুক্রবার ইসলামাবাদে উভয় পক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আরও আলোচনার জন্য, যেখানে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগোনোর চেষ্টা হবে। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বা হোয়াইট হাউস ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
চুক্তির সংকট
দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির অর্থ নিয়ে ইতোমধ্যেই পরস্পরবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট। অতীতে দুই দফা আলোচনার মাঝেই সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। এছাড়া ইরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা দাবিকে “অনেক বেশি, অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক” বলে বর্ণনা করেছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার অভিজ্ঞতাকে “খুবই বাজে” বলে মন্তব্য করেছে।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং এই দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পরিণত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে আসন্ন কূটনৈতিক আলোচনার সাফল্যের ওপর।
https://slotbet.online/