• বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ০১:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দ্রব্যমূল্যের দাম কমায় সরকারের ওপর সন্তুষ্ট জনগণ -রহমাতুল্লাহ নিয়ামতি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের উপর হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল কলাপাড়ায় বিরল প্রজাতির ব্রাউন বুবক পাখি উদ্ধার নতুন সরকারের দৃশ্যমান সাফল্যে বিরোধী মহল বিচলিত: রহমাতুল্লাহ ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সম্মানে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ইফতার বা‌কেরগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়েই জুলাই ইতিহাস ভুলে গেলেন : গোলাম পরওয়ার হানিট্রাপ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশালে নারীসহ গ্রেপ্তার ২ সংস্কার বাস্তবায়ন না করার নানা ফন্দি আঁটছে সরকার : নাহিদ তরমুজ আবাদে রেকর্ড করেছে দক্ষিণাঞ্চল

বিপিএল’র ভেন্যুর স্বপ্ন পূরন হলোনা বরিশালবাসীর

স্টাফ রিপোর্টার / ১৯৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫

ধীরগতি ও এলোমেলো সংস্কার কাজের কারণে এবারও বরিশাল স্টেডিয়ামে বিপিএল এর আসর হচ্ছেনা। বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আশ্বাসে বরিশালবাসীর মনে আশার সঞ্চার হলেও তা পুরোই ভেস্তে গেছে।
ইতোমধ্যে বিপিএল ২০২৫-২০২৬ এর আসরের দিনক্ষন, ম্যাচ সিডিউল এবং ভেন্যু নির্ধারন হয়ে গেছে। যেখানে নেই বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের নাম। আসন্ন বিপিএল আসর প্রধানত অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। প্রাথমিকভাবে এই ভেন্যু ঘোষনার পর রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনায় ভেন্যু হওয়ার জোর গুঞ্জন উঠেছে। বিপিএল এর চেয়ারম্যান মাহাবুব আনাম পরে কমপক্ষে একটি ভেন্যু বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন। তার ঘোষনার পর সম্প্রতি সময়ে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টেকনিক্যাল টিমের সদস্যরা। কিন্তু পরিদর্শনে এসে কাজের অগ্রগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে তারা চলে যান। এরপর ভেন্যুর সম্ভাব্য তালিকা থেকেও বাদ পরে বরিশাল স্টেডিয়াম এবং ভেন্যু হিসেবে নিশ্চিত হয় রাজশাহী ও খুলনার দুই স্টেডিয়াম। বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের আশা বরিশালে একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলার আসর জমবে। তবে এবারও তা না হওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দিয়েছে।
বরিশালের ক্রিকেট প্রেমীদের মতে, বরিশালে এতো ভালো মানের একটি স্টেডিয়াম থাকা সত্বেও এখানে শুধুমাত্র অব্যাবস্থাপনার কারনে স্টেডিয়ামটি মুল্যহীন হয়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংস্কার কাজ করেও স্টেডিয়ামটির উন্নয়ন কাজ শেষ হয়নি। এতে চরম হতাশা প্রকাশ করে বরিশালের একাধিক ক্রীড়া প্রেমিরা বলেন, স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এই জনমে আর হবেনা। আন্তর্জাতিক আসর সাজানোতো দুরের কথা বর্তমান অবস্থা চলমান থাকলে কিছুদিন পর নিয়মিত খেলাধুলাও বন্ধ হয়ে যাবে। বরিশাল জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে ঢেলে না সাজালে বরিশালের স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া অঙ্গনের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অন্ধকার।
সরেজমিনে বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দেখা গেছে, সংস্কার কাজের ভীষন এলামেলো অবস্থা। প্রত্যেকটি পর্যায়ের কাজ শুরু করে তা আংশিক অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। খেলার জন্য প্রয়োজনীয় মাঠ প্রস্তুতে গুরুত্ব না দিয়ে তৈরি করে রাখা হয়েছে গ্যালারীর চেয়ার। অন্যদিকে কয়েক দফার পরে আবারো পুরো মাঠের মাটি খুড়ে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। প্যাভেলিয়ন ভবনের এবং মিডিয়া ব্লকের ৫০ শতাংশ কাজ শেষের দাবি করা হলেও এখনও সময়সাপেক্ষ। ফ্লাড লাইট অনেক আগে লাগানো হওয়ায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় তা অকেজো হয়ে গেছে। এর কাজ শেষ হতে ৫/৬ মাস সময় লাগবে। সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার বসানো, ইলেকট্রিক ওয়্যার বসানোসহ বিভিন্ন কাজের মধ্যে কিছু কাজ শেষ হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন মাঠের কাজের অবস্থা বেশি শোচনীয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সিলেটের মতো এখানকার মাঠেও উন্নতমানের ঘাস লাগানো এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরির কথা থাকলেও তা কবে হবে এর কোন নিশ্চয়তা নেই।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সংশ্লিষ্ট কাউকেই সংস্কার কাজের আশে পাশে পাওয়া যায়নি। তবে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে আসা খেলোয়াররা জানিয়েছেন, কাজের যে অবস্থা তারা প্রতিনিয়ত দেখছেন তাতে ছয় মাসতো দুরের কথা এক বছরেও এই কাজ শেষ হবেনা। তাই বিপিএলতো দুরের কথা আগামী ২/১ বছরে স্থানীয় কোন খেলাও এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বলে তারা মনে করছেন না।
বরিশাল বিভাগীয় ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান খসরু বলেন, বিপিএল এর আসর জমা বা বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের একটি খেলার আসরের আয়োজন হওয়ার স্বপ্ন ভাঙ্গার পেছনের প্রধান কারন অনির্বাচিত ও অভিভাবকহীন জেলা ক্রীড়া সংস্থা। তিনি আরও বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটি নির্বাচিত কমিটি থাকলে কখনই এমন পরিস্থিতি হতোনা। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের সংস্কার কাজ চলছে যা অত্যন্ত নিন্মমানের। কাজের শুরুতেই বার বার জেলা ক্রীড়া সংস্থাকে তারা কাজের মান নিয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বর্তমানে একটি তিন সদস্যর এডহক কমিটি দিয়ে চলছে ক্রীড়া সংস্থা। কোন বিষয় তদারকি করার মতো লোক নেই বরিশাল স্টেডিয়ামে। ১৯৯৫ সালের পর আর কোন নির্বাচন হয়নি জেলা ক্রীড়া সংস্থায়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে বরিশাল নগরীর বান্দ রোড লাগোয়া কীর্তনখোলা নদীর তীরে ২৯ একর ১৫ শতক জমির ওপর স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামটি আধুনিকায়ন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ সালে প্রথম আন্তর্জাতিক আসর হিসেবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের চার দিনের ম্যাচ আয়োজনের কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে সেই ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়। ###


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/