বরিশাল জেলা শ্রম ক্রাইসিস প্রতিরোধ কমিটির সভা আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল জেলা প্রশাসন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন সভাপতিত্ব করেন।
সভাপতির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে দিতে হবে। কেননা নির্দিষ্ট সময়ে বেতনপ্রাপ্তি শ্রমিকদের কাজের স্পৃহা বাড়াতে সাহায্য করে। মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কলকারখানায় কাজের পরিবেশ ও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কাজ করার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের দেশে প্রচলিত শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে কাজ করতে হবে। কেননা শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের দৈনিক সর্বোচ্চ ৮ ঘণ্টা কাজ করার বিধান রয়েছে। অতিরিক্ত কাজ করলে শ্রমিকরা ওভারটাইম ভাতা পাবেন, তবে তা আইনসিদ্ধ সীমার মধ্যে হতে হবে।
বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার ফলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যহানি, দুর্ঘটনা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কাজের প্রতি শ্রমিকদের আগ্রহ বাড়াতে তাদের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচি চালু করার পাশাপাশি বোনাস, চাকরির স্থায়ীত্বের নিশ্চয়তা, সেরা কর্মীর পুরস্কার ও বিশেষ প্রশিক্ষণ সুবিধার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে শ্রমিকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুম বিল্লাহ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর বরিশালের উপ মহা পরিদর্শক নবীন কুমার হাওলাদার, শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ, প্রতিষ্ঠান মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/