বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষকদের চলমান ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। গত কয়েক দফায় বিভিন্ন বিভাগের মোট ৪৪টি ফাইনাল পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় তীব্র সেশনজটের মুখে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে এ পর্যন্ত ৩২টি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। চলমান দ্বিতীয় দফার শাটডাউনে আরও ১১টি পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। সব মিলিয়ে বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪-এ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নির্ধারিত আরও ১৪টি কোর্সের পরীক্ষা হবে কি না, তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সাযযাদ উল্লাহ মো. ফয়সাল বলেন,
“আমরা নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার হলে উত্তরপত্র পাঠাচ্ছি, কিন্তু শিক্ষকরা পরীক্ষা নিচ্ছেন না। ফলে উত্তরপত্র ফেরত আসছে। শিক্ষকরা অংশগ্রহণ না করলে আমাদের পক্ষে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়।”
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্নাতক (অনার্স) শেষ বর্ষ ও সেমিস্টার পদ্ধতির শিক্ষার্থীরা। হাসিবুল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগের জটই বিশ্ববিদ্যালয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি, তার ওপর এই নতুন অচলাবস্থা। শিক্ষকদের কাছে অনুরোধ, আপনারা অন্যভাবে আন্দোলন করুন, কিন্তু আমাদের পরীক্ষাগুলো চালু রাখুন।”
আর্থিক সংকটে থাকা অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, মেস ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বলেন, “টিউশন আর পরিবারের সামান্য টাকায় কোনোমতে চলি। বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিরিক্ত একদিন থাকাও আমাদের জন্য বড় বোঝা। শিক্ষকদের আন্দোলনের খেসারত কেন আমাদের দিতে হবে?”
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম জানিয়েছেন, সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “গত সিন্ডিকেট সভায় আমরা একটি সুন্দর সমাধান করেছিলাম। আজকের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য চেয়ারম্যান ও ডিনদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা করছি।”
https://slotbet.online/