• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক!

শেবাচিম হাসপাতালে নেই সিসিএম ইউনিট ও ক্যাথল্যাব, চিকিৎসক সংকট

অনিকেত মাসুদ / ১১৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

তীব্র চিকিৎসক সংকট ও ধারণক্ষমতার পাঁচগুণ রোগীর চাপে বিপর্যস্ত বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল। ৫৮ বছরের পুরোনো অবকাঠামোয় তিল ধারণের জায়গা না থাকায় মেঝেতে, বারান্দাতে চলছে রোগীদের চিকিৎসা। টেকনোলজিস্টের অভাবে প্যাথলজি সেবা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নেই সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন’ বিভাগও। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবা এখন চরম ভোগান্তি ও বঞ্চনায় পরিণত হয়েছে।

এ হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে সর্বোচ্চ ৫০০ রোগীকে সেবা দেওয়ার জায়গা থাকলেও প্রতিদিন ভর্তি থাকছে সক্ষমতার পাঁচগুণেরও বেশি ২৫০০ রোগী। পাশাপাশি বহির্বিভাগেও প্রতিদিন আরও ৩৫০০ রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। তাই আটান্ন বছরের পুরোনো অবকাঠামোতে শয্যা সংকট থাকায় রোগীদের ওয়ার্ডের মেঝে বা চলাচলের পথে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আর বহির্বিভাগে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের। প্রতিষ্ঠার পর মাত্র একটি মেডিসিন ভবন নির্মাণ করলেও রোগীর সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সংকট মোটেও কাটেনি। ফলে বর্তমানে এ হাসপাতালের ৭০ শয্যার শিশু বিভাগেই চিকিৎসা নিচ্ছে ধারণক্ষমতার পাঁচগুণ ৩৫০ জন রোগী।

বাড়েনি চিকিৎসকের পদ। পুরোনো অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী যে সংখ্যক চিকিৎসক থাকার কথা তাও নেই এখানে। চিকিৎসক পদে মোট ৩২৩টি পদ মঞ্জুরি করা থাকলেও পদায়ন করা হয়েছে মাত্র ২২৯ জনকে; ফলে এখনো মোট শূন্য আছে ৯৪টি পদ। এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক) পদে মোট ২৪৮টি পদ মঞ্জুরি করা পদের মধ্যে ১৪৬টি পদ শূন্য। এর মধ্যে অধ্যাপক পদে ৫১টি পদের বিপরীতে ৩৮টি পদ শূন্য। সহযোগী অধ্যাপকের ৭৪টি পদের মধ্যে ৩৬টি পদ শূন্য। এছাড়া সহকারী অধ্যাপকের ১২৩ পদের মধ্যে ৭২টি পদ শূন্য অবস্থায় আছে। ফলে এখানে বর্তমানে কর্মরত ১০২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও তারা রোগীদের চাপ সামলাতে পারছেন না। এত বছরে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও টেকনোলজিস্ট পদে বাড়েনি পদ। পুরোনো অর্গানোগ্রামে টেকনোলজিস্ট পদে মঞ্জুরি করা ২৭ পদের মধ্যেও ৭টি শূন্য পদ আছে। ফলে এখানকার রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনোলজিস্ট সংকটে তা সার্বক্ষণিক চালাতে ব্যর্থ হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি ল্যাব সচল রাখতে ১৮ জন টেকনোলজিস্ট দরকার হলেও আছে মাত্র ৮ জন।

শেবাচিমে মাত্র ১০ শয্যার আইসিসিউ থাকলেও সংকটাপন্ন রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার জন্য নেই ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন (সিসিএম) ইউনিট ও হৃদরোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্যাথল্যাব। ফলে হৃদরোগীদের এনজিওগ্রাম করতেও যেতে হয় রাজধানী ঢাকায়। তাই সংকটাপন্ন অধিকাংশ রোগীর উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছে না এ হাসপাতালটি। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, পুরোনো অবকাঠামো ও জনবল সংকটের মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিচ্ছি। ক্যাথল্যাব স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে নিয়মিত মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/