• শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই

পা ফেলার জায়গা নেই শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডে

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৬ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৩ মে, ২০২৬

বরিশাল সেনানিবাসে কর্মরত মো. নয়নের আড়াই মাস বয়সী শিশু সন্তান সিয়ামের নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানকার পরিস্থিতি দেখে সন্ধ্যায় তিনি সন্তানকে নিয়ে চলে যান।

নয়ন বলছিলেন, একটি শয্যায় চারজন করে শিশু রাখা হয়েছে। একই শয্যার দুই শিশু মারা গেছে। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে ওয়ার্ডে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভয় পেয়ে সন্ধ্যার পরই শিশুকে হাসপাতাল থেকে একে এক ‘প্রাইভেট চিকিৎসকের’ শরণাপন্ন হয়েছি।

নয়নের অভিযোগ, বন্ধের দিন হওয়ায় একজন ইন্টার্নিকেও ঠিকমত পাওয়া যায়নি। বিনা চিকিৎসায় শিশুরা মারা যাচ্ছে। একটি ওয়ার্ডে চারশর মত শিশু ভর্তি রয়েছে। পা ফেলারও জায়গা নেই।

শুক্রবার রাত ৮টায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। ওয়ার্ডে হাঁটার মত পরিস্থিতি নেই। বারান্দায় সরু একটি হাঁটার পথ রয়েছে। দুই পাশে ফ্লোরে শিশু রোগীদের নিয়ে বসে আছেন বাবা-মা। সামনের খোলা স্থানে ফ্লোর ভর্তি হয়ে পাশের পেইন ওয়ার্ডের বারান্দায়ও শিশুদের রাখা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৭০টি শয্যা রয়েছে। সেখানে সকাল পর্যন্ত ভর্তি ছিল ৪৫০ জন। এর মধ্যে হামের উপসর্গ রয়েছে ১৭৫ জনের।

অপরদিকে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ২৪ জন হলেও আছেন মাত্র ১০ জন। এই অবস্থায় শিশুদের চিকিৎসা দিতে তাদের হিমসিম খেতে হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবিকার কাছে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে শিশু ভর্তির বিশাল লাইন। একের পর এক শিশু ভর্তি হচ্ছে। ওই সেবিকা শিশুদের নাম তালিকাভুক্ত করছেন। কোথায় কীভাবে শিশুকে নিয়ে রাখবেন, সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না রোগীর স্বজনদের। নাম তালিকাভুক্ত করে শিশুর স্বজনরা সন্তান নিয়ে একটু বসার স্থান খুঁজছেন।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সন্তানকে এখানে ভর্তি করানোর পরেও চলে গেছেন নগরীর জিয়া সড়কের বাসিন্দা মো. রাসেল।

তিনি বলেন, “হাসপাতালের যে অবস্থা, সন্তানকে কোথায় রাখব? সেই জায়গাই তো খুঁজে পাচ্ছি না। চিকিৎসক যে চিকিৎসা দিয়েছে, তা বাসায় বসে দেব।”

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের একজন সেবিকা বলেন, আমি রাতের শিফটে ডিউটিতে এসেছি। আমি আসার পর কোনো শিশু মারা যায়নি।

আগে মারা যাওয়া শিশুর তথ্য চাইলে সেবিকা বলেন, আমার দেওয়ার সময় নেই। চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে খোঁজ নিন।

তিনি জানান, সকাল থেকে তার দায়িত্ব শুরুর আগ পর্যন্ত ৯৪ শিশু ভর্তি হয়েছে। তিনি এসে ৩৪ জনকে ভর্তি করেছেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে, স্বজনদের বিশাল লাইন। সবাই শিশুর ব্যবস্থাপত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই আনসার ও এক পুলিশ সদস্যকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলেন, তারাও রাতে এসেছেন। মৃত্যুর সংখ্যা তাদের কাছে নেই। তবে তারা সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দিচ্ছেন।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হাম ডেডিকেশন কক্ষে প্রবেশ করার কোনো উপায় নেই। তাই নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা ও বাইরেও রাখা হয়েছে। ফলে নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য রোগীরাও হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্বজনরা আশঙ্কা করছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মুশিউল মনির বলেন, প্রতি রোগীর সঙ্গে তিন-চারজন করে ভিজিটর থাকেন। তাদের কোনোভাবেই সরানো যায় না। অর্ধেক চিকিৎসকও নেই। তাদের দিয়ে রোগীর চাপ সামাল দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে।

আজ হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য রোগে আক্রান্তও কয়েকজনের মৃত্যু হয়ছে। প্রতিদিন চার-পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। আলাদা শিশু হাসপাতাল না হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/