বরিশাল নগরীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে রুপাতলীতে ১৬ এমএলডি (মিলিয়ন লিটার পার ডে) সক্ষমতার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ১২টায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন সুইচ টিপে প্ল্যান্টটির উদ্বোধন করেন। প্রায় এক দশক আগে নির্মাণ শেষ হলেও নানা জটিলতায় এতদিন এটি অচল অবস্থায় পড়ে ছিল।
পরবর্তীতে সরকারি উদ্যোগে প্ল্যান্টটি মেরামত, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুনরায় সচল করা হয়। ফলে এখন থেকে নগরবাসীর জন্য বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবির, পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুকসহ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে রূপাতলী ও আমানগঞ্জ এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়। একই বছর প্রকল্পটি বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ সমস্যা ও যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে তা চালু করা হয়নি।
দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোতে মরিচা ধরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে সরকার পুনরায় ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় রূপাতলীর প্ল্যান্টটি আজ চালু করা হলো এবং আমানগঞ্জের প্ল্যান্টটি আগামী মে মাসে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ লিটার। বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার। প্ল্যান্ট দুটি পুরোপুরি চালু হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ সম্ভব হবে। এতে নগরীর বড় অংশের পানির ঘাটতি কমবে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে এ প্রকল্প সচল হওয়া নগরবাসীর জন্য স্বস্তির বার্তা এবং নগর ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।
বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। রুপাতলী ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পুনরায় চালুর মাধ্যমে আমরা সেই লক্ষ্য পূরণে বড় একটি ধাপ এগিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজনের ফলে প্ল্যান্টটির কার্যকারিতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে। পাশাপাশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও টেকসই করতে ভবিষ্যতে নতুন পানি শোধনাগার স্থাপন, পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিকে প্ল্যান্টটি চালু হওয়ায় বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে পানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সময় এই প্ল্যান্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অব্যাহত থাকে, তবে রুপাতলী পানি শোধনাগারটি নগরীর পানি সংকট দূরীকরণে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
https://slotbet.online/