বরিশালে ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে অসহ্য গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। দিনে-রাতে সব সময় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোনও কোনও জেলায় সাত থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে মানুষের। একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে তাদের। সবচেয়ে বিপাকে আছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বরিশালে শহরে পাঁচ ঘণ্টা এবং গ্রামাঞ্চলে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং থাকছে প্রতিদিন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। তার মধ্যে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দোকান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোকসান হচ্ছে তাদের।
নগরীর রূপাতলির ৩৩ কেভি সাবস্টেশনের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৪২ মেগাওয়াট। এ কারণে পিক-আওয়ার ও অফ পিক-আওয়ারে শহরে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও সার্কুলার রোডের বাসিন্দা সাদেক হোসেন জানিয়েছেন, দিনে-রাতে পাঁচ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং থাকে। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় শিশুদের নিয়ে।
নগরীর চকবাজারের ব্যবসায়ী মিনাল কান্তি সাহা ও মোহাম্মদ শাহিন জানান, বিদ্যুৎ সংকটে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতিবার গেলে এক ঘণ্টার বেশি সময় লোডশেডিং থাকে। এ কারণে ক্রেতা ধরে রাখা যায় না। এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে প্রতিদিনের দোকানের খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর কুমার স্বর্ণকার জানান, তার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭৯ মেগাওয়াট। বরাদ্দ পাচ্ছেন ৫০ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কেন্দ্র-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, তার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৩৯ মেগাওয়াট। তাকে সরবরাহ করা হচ্ছে ২১ মেগাওয়াট।
https://slotbet.online/