আগৈলঝাড়া ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাইন। কারও হাতে ড্রাম, কারও জার। রাজিহার গ্রামের কৃষক ইসলাম সরদার, বাগধা গ্রামের রহিম মিয়া, বাটরা গ্রামের সুবোধ হালদার, কমলেশ বৈরাগীর একই অবস্থা।
ইসলাম সরদার বলেন, ‘মঙ্গলবার এসে তেল পাইনি। বুধবার আবার সকাল সকাল লাইনে দাঁড়িয়েছি। বিকেল নাগাদ দেড় হাজার টাকায় মাত্র ১৩ লিটার তেল দিয়ে কী হবে?’
দক্ষিণ শিহিপাশার সেলিম হাওলাদারের কণ্ঠে উদ্বেগ। তিনি বলেন, ‘ধান উঠানে পড়ে আছে। তেল না পেলে মাড়াই করব কীভাবে? বৃষ্টি এলে মাঠের পাশাপাশি উঠানের সব ধানই নষ্ট হবে।’
দক্ষিণ বাটরা গ্রামের কৃষক মনমথ দাসের হিসাব, একদিন লাইনে দাঁড়াতে গেলে শ্রমের পুরো একটা দিন নষ্ট। সেই সময়ে মাঠের কাজ করাও সম্ভব হচ্ছে না।
ডিজেল নির্ভরতার ফাঁদ
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগৈলঝাড়ায় সেচের প্রায় ৬০ শতাংশই ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল।
বিদ্যুৎ, সোলার, স্যালো টিউবওয়েলের পাশাপাশি উপরিভাগের পানির ব্যবহার প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে ধান মাড়াইয়ের ক্ষেত্রে ডিজেলের ওপর এই নির্ভরতা শতভাগ।
উপজেলায় প্রায় ৮৫০টি ধান মাড়াই মেশিন রয়েছে, যেগুলো সবই ডিজেলচালিত। বুধবার বিকেল পর্যন্ত ৭৮০ জনকে ফুয়েল কার্ড দেওয়া হয়েছে।
এখনও আরও ১২০টি কার্ড কৃষি বিভাগের কাছে রয়েছে। মাড়াই মেশিন ডিজেলচালিত হওয়ার ফলে এই সময় তেল সরবরাহে সামান্য ঘাটতিই পুরো ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে।
https://slotbet.online/