প্রতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৫৬ বছর পার করলেও আজও নেই কোনো ডায়রিয়া ওয়ার্ড। ফলে রোগীদের একমাত্র ভরসা ১’শ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু সেখানেও অব্যবস্থাপনার চিত্র।
সরেজমিনে দেখা যায়, ‘হাসপাতালটির কম্পাউন্ডের মধ্যে টিনশেড ভবনে ডায়রিয়ার একটিমাত্র ওয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। তাও আবার ৪ শয্যার। নারীদের জন্য পৃথক কোনো ওয়ার্ড থাকায় চিকিৎসা চলে পুরুষদের সঙ্গেই। প্রতিদিন ওয়ার্ডটিতে ২০ থেকে ২৫জন মানুষ ভর্তি হচ্ছেন এই রোগে। যার মধ্যে ৮ থেকে ১০ জনই নারী রোগী।
বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৩৫ বছরের নার্গিস আক্তার। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। নারী ও পুরুষদের একসাথে চিকিৎসা হওয়ায় শয্যার চারপাশে কাপড় টানিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে। তার অভিযোগ, ‘অনেকটা বাধ্য হয়েই হাসপাতালতে ভর্তি হয়েছেন। কারণ শয্যার দুই দিকে পুরুষ রোগী, যা খুব অস্বস্তিকর।
সালমা নামের আরেক নারী রোগী বলেন, ‘নারীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড তৈরি করা উচিত। এভাবে চিকিৎসা নেয়া পর্দারও বরখেলাপ।’
এদিকে স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্য মতে, ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত জেনারেল হাসপাতালটি ২’শ শয্যায় উন্নীত করার কথা থাকলেও তা কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। যদি হাসপাতালের পূর্বপাশে ১২ তলাবিশিষ্ট নতুন ভবনের কাজ আটকে আছে মাঝপথে।
বন সংকটের দোহাই দিয়ে এ বিষয়ে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল জানান, ‘প্রতিদিন ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বাড়লেও প্রয়োজনীয় বিছানা ও ওয়ার্ড না থাকায় নারী-পুরুষ একসঙ্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক সময় মেঝেতেও চিকিৎসা নিতে হয়।’
অন্যদিকে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিভাগের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধু শিশুদের ডায়রিয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়।
এ রকম আরো সংবাদ...