• শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাংবাদিক এম মিরাজের মৃত্যুতে বরিশালের মিডিয়া পাড়ায় শোকের ছায়া বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই

২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর বরিশাল হানাদার মুক্ত ছিলো

নুরুল আলম ফরিদ,বীর মুক্তিযোদ্ধা / ১৭৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বরিশালে স্বাধীন বাংলার দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম সচিবলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। যুদ্ধের পরিকল্পনায় একাত্তরের ২৬ মার্চ সকাল ১০ টায় মেজর জলিলকে সামরিক প্রধান করে ১১ সদস্য বিশিষ্ঠ কমিটি গঠন করে বরিশাল সদর গালর্স স্কুলে এই সচিবলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। এপ্রিলের শুরুতেই মেজর জলিল এর নেতৃত্বে খুলনা রেডিও সেন্টারে আক্রমন করে।
বরিশাল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য খাবার সামগ্রি নিয়ে লঞ্চ যোগে ৫০ আনসার এবং পুলিশ চাঁদপুর নিয়ে যায়। এবং সেখানে গিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। ওইসময়ে অর্থাৎ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বৃহত্তর বরিশাল হানাদার মুক্ত ছিলো। পাশাপাশি এখানকার মুক্তিযোদ্ধারা ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপনসহ ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করে।
বরিশালে ২৫ এপ্রিল যখন আকাশ, নৌ, স্থলপথে হানাদার বাহিনী আক্রমন শুরু করে, তখন মাধবপাশা থেকে ৪৫ জন মুক্তিযোদ্ধা নৌকাযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। পথিমধ্যে বরিশাল এসপি’র লঞ্চসহ আরো দুটি লঞ্চ নিয়ে ১ মে পশ্চিশ বাংলার হাসনাবাদে পৌছি। এবং তৎকালীন সময়ে এতে অংশগ্রহন করেন ৯ সেক্টরের বেসামরিক প্রধান (এম.এন.এ) নূরুল ইসলাম মঞ্জুর, আইন বিচার বিভাগের প্রধান এ্যাড. আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, খাদ্য বিভাগের প্রধান মহিউদ্দিন আহমেদ, নূরুল আলম ফরিদ, জালাল আহমেদ সরদার, আ.স.ম ফিরোজ, এ্যাড. ওবায়দুর রহমান মোস্তফা, আমিনুল ইসলাম সুরুজ, মর্তুজা মানিক, লে: নাসির, আব্দুস সাত্তার সন্যামত কালুসহ অন্যান্যরা।
এরআগে ভারতের হাসনাবাদ থেকে ৯ নং সেক্টরের অধিনায়ক মেজর জলিল এবং সেকেন্ডিং কমান্ড ক্যাপ্টেন নূরুল হুদা ভারী অস্ত্রসস্ত্র সংগ্রহ করেন। তিনি হাসনাবাদের হিঙ্গলগঞ্জে অপারেশন ক্যাম্পের দায়িত্বে ছিলেন। এবং ৪ মে মেজর জলিল এবং নূরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে দুটি লঞ্চ যোগে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র নিয়ে সুন্দরবন হয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে রাত ১২ টার দিকে লঞ্চ দুটিতে হামলা চালায়। এতে লঞ্চ দুটি ডুবে গেলেও ভাগ্যক্রমে মুক্তিযোদ্ধারা সবাই বেঁচে যান। কিন্তু সেখান থেকে মহিউদ্দিন আহমেদ, সরদার জালাল, ক্যাপ্টেন নাসির, আব্দুল সাত্তার সন্ন্যামত সহ ১৭ জনকে বুড়িগোয়ালিনিতে শান্তি কমিটি এদের আটক করে পাক বাহিনীর কাছে হস্থান্তর করে। পাক বাহিনী তাদেরকে যশোর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যায়। এবং স্বাধীনতার পর তারা মুক্তি পান।
বলাবাহুল্য : মুক্তিযুদ্ধকালীন ৯ নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধাদের অভার্থনা ক্যাম্প ছিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাসনাবাদে। এই মুক্তিযোদ্ধাদের অভার্থনা ক্যাম্পের রিসিপশনের দায়িত্বে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৯ সেক্টরের মুখপত্র বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাংবাদিক নূরুল আলম ফরিদ। ৯ নং সেক্টরে প্রশিক্ষন ক্যাম্প ছিলো কয়েকটি। এরমধ্যে প্রধান ক্যাম্প ছিলো হাসনাবাদের টাকিতে। এবং সেখানে ভারতের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিলো না। মে মাসের ৩য় সপ্তাহে বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ এর নেতৃত্বে টাকি থেকে দুটি বাসযোগে ৯০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে কল্যানী হাইস্কুলে জেডফোর্সের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রহন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমান। তখন তার পড়নে ছিলো একটি হাফ প্যান্ট, সাদা গ্যাঞ্জি, পায়ে ব্যান্ডিজ, হাতে ছিলো লাঠি। এরপরে আসাম এবং চাকুলিয়া ট্রেনিংপ্রাপ্ত ৯০ জন মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ এর নেতৃত্বে ওই বাসে টাকি ক্যাম্পে পৌছেন। এই ছিলো ৯ নং সেক্টরের প্রথম ট্রেনিং প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ( লেখক : মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আলম ফরিদ, সম্পাদক, রনাঙ্গনের পত্রিকা দৈনিক বিপ্লবি বাংলাদেশ )


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/