বরিশালের ছয়টি আসনের বিপরীতে ৪৮ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। দাখিলকৃত ৪৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে বরিশাল-৩ ও ৬ আসনে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন।
দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী, এ দুটি আসনের প্রার্থীরা ধর্মীয় আলোচক, শিক্ষক, কৃষিকাজ ও ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে সবথেকে বেশি বাৎসরিক আয় বিএনপির প্রার্থীর এবং এরপরের অবস্থানেই রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের প্রার্থী আবদুস ছালাম খোকন স্বশিক্ষিত এবং পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় তিন লাখ ৭৬ হাজার টাকা। তিন লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং ২১ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর। এছাড়া স্ত্রীর নামে ১০ লাখ টাকার কৃষিজমি স্থাবর সম্পদের হিসেবে রয়েছে।
অপরদিকে বরিশাল-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম কামিল ফিকাহ (এমএ) পাস এবং পেশায় একজন শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে তিনটি মামলা ছিল, তবে বর্তমানে কোনো মামলা নেই। এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ১৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। তিনি বর্তমানে ২২ বোর একটি রাইফেল, ১০৬০ শতাংশ কৃষিজমি, ৩৭.৬০ শতাংশ অকৃষিজমিসহ ৩৩ লাখ ১৩ হাজার ২২৩ টাকার অস্থাবর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমিসহ ৩ কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার ১২৪ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক। এছাড়া প্রার্থীর স্ত্রী মোসা. তাছলিমা আক্তারের ১৮৭ ভরি স্বর্ণসহ বর্তমানে ৩ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আব্দুল কুদ্দুস কামিল পাস এবং পেশায় একজন বেসরকারি চাকরিজীবী। তার বাৎসরিক আয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। লাখ টাকার ওপরে প্রার্থীর নিজের এবং স্ত্রীর ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি প্রার্থীর ৮ লাখ টাকা মূল্যের কৃষিজমি রয়েছে।
এ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান এমএসএস ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সাতটি মামলার মধ্যে ছয়টিতে অব্যাহতি পেয়েছেন এবং একটিতে জামিনে আছেন। এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৫৮ টাকা। প্রার্থীর নিজের এক কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫৫ টাকার এবং স্ত্রীর ৩২ লাখ ৪৩ হাজার ৯০৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। অপরদিকে বিপুল পরিমাণ কৃষি-অকৃষি জমি, বাড়িসহ ১ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ প্রার্থীর নিজের রয়েছে। সেই সঙ্গে ঢাকায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টসহ ৩২ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর স্ত্রীর নামে। এসব কিছুর বাইরে প্রার্থীর নিজের ব্যাংক, স্ত্রী ও ভাই-বোনের কাছে ৮৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮৭২ টাকার দায় রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহমুদুন্নবী কামিল পাস ও পেশায় একজন শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনো মামলা না থাকলেও পূর্বে দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলাতেই খালাস পেয়েছেন। এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৬ টাকা। বর্তমানে প্রার্থীর নিজের ১৭ লাখ ২৬ হাজার ৬৯৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের মো. সালাউদ্দিন মিয়া বিএ পাস এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার নিজের বাৎসরিক আয় চার লাখ টাকা এবং শিক্ষিকা স্ত্রী নার্গিস আক্তারের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা। প্রার্থীর নিজের ৯৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার এবং তার স্ত্রীর ২৫ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রিক সামগ্রী অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান এমবি ডিগ্রিধারী এবং কৃষিকাজ তার বর্তমান পেশা। এই প্রার্থীর বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৫৪ হাজার ২১ টাকা। প্রার্থীর নিজের ২২ লাখ ৮২ হাজার ২৬ টাকা অস্থাবর এবং ২৩ শত কৃষি ও অকৃষিজমি স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে।
https://slotbet.online/