• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ট্রান্সফরমার চুরির সময় হাতেনাতে আটক গণঅধিকার পরিষদের নেতা একটি ভোটও কারচুপি হলে মেনে নেব না: নৌ প্রতিমন্ত্রী দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম ইলিশের নিষেধাজ্ঞার ২২ দিনে বরিশাল বিভাগে ৫৩৬ জনের জেল বরিশালে কোস্ট গার্ডের নৌযানের ধাক্কায় গমবোঝাই কার্গোতে ফাটল, ক্ষতিগ্রস্ত ৮ স্পিড বোট বানারীপাড়ায় সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বরিশালের বাবুগঞ্জে এবার নারী ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা নদীতে জীবন, মৃত্যুর পর কবরও জুটত না মান্তাদের,এবার হচ্ছে কবরস্থান বরিশাল প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ পেলেন ১১ সাংবাদিক দুই যুগেও বরিশাল নগরীতে গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

বানারীপাড়ায় সারের ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

বানারীপাড়া প্রতিনিধি / ৩৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

বরিশালের বানারীপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। তালিকায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধার দুই ভাইয়ের নাম রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি-যুবদলের একাধিক নেতাকর্মী এবং এক উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাকে অন্য উপজেলার ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই লাইসেন্সের বিপরীতে দুই ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা। তবে নিয়োগে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। জানা গেছে, বানারীপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় মোট নয়জনকে সার ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘মেসার্স মৃধা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি লাইসেন্সের বিপরীতে আরিফ মৃধা ও সোহেল মৃধা দুটি ডিলারশিপ পেয়েছেন। তারা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধার ভাই। রিয়াজ নিজেও উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য।

ডিলারশিপবঞ্চিত কয়েকজন ব্যবসায়ীর অভিযোগ, একই লাইসেন্সের বিপরীতে দুই ব্যক্তিকে ডিলারশিপ দেওয়া নীতিমালার পরিপন্থী। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্য তৈরি হয়েছে। তবে একই লাইসেন্সের বিপরীতে দুই ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার সুনির্দিষ্ট বিধান যাচাই করা যায়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহেল মৃধা বানারীপাড়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হলেও তাকে সদর ইউনিয়নের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আরিফ মৃধা পেয়েছেন পৌর এলাকার ডিলারশিপ। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়া সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি ছাব্বির আহমেদ সুমন হাওলাদার। উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক শহিদুল ইসলামের ভাই আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের ডিলারশিপ।

পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠি উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বিএনপিকর্মী জাহিদুল ইসলামের শ্বশুরবাড়ি বানারীপাড়ার উদয়কাঠী ইউনিয়নের তেতলা গ্রামে। তাঁকে ওই ইউনিয়নের ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চাখার ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান, বাইশারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বিশারকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফিরোজ মাহমুদ নিজ নিজ ইউনিয়নে ডিলারশিপ পেয়েছেন। ফিরোজ মাহমুদ আগে থেকেই উন্মুক্ত বাজারে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) নিযুক্ত ডিলার বলে জানা গেছে। ইলুহার ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেয়েছেন বিএনপিকর্মী সাইফুল ইসলাম।

পৌর এলাকার ভোটার হয়েও সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে ছাব্বির আহমেদ সুমন বলেন, সালিয়াবাকপুর ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়ি। নিয়ম মেনেই তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ তাকে উপযুক্ত মনে করেই ডিলারশিপ দিয়েছে।

দুই ভাইয়ের ডিলারশিপ পাওয়ার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ মৃধা বলেন, পৌর এলাকায় অন্য কেউ আবেদন করেননি। একটি জায়গা শূন্য থাকলে নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দিতে হতো। এ কারণে অফিস থেকে তাঁকে একজন আবেদনকারী খুঁজে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

রিয়াজ বলেন, কেউ আবেদন না করায় তিনি তার ভাই আরিফ মৃধাকে দিয়ে আবেদন করিয়েছেন। একমাত্র আবেদনকারী হওয়ায় আরিফ চূড়ান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, পৈতৃক নিবাস সদর ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে তার আরেক ভাই সোহেল মৃধা ডিলারশিপ পেয়েছেন। তার দাবি, এতে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি।

উপজেলা সার-বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু হাসনাইনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চাপ সৃষ্টি করে বা জোর করে কারও কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হয়নি।

আবু হাসনাইনের ভাষ্য, সাধারণভাবে এক পরিবারের দুজন ডিলারশিপ পাবেন না, এটাই নিয়ম। তবে আরিফ ও সোহেল মৃধা সহোদর হলেও তারা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল নন। এ কারণে তাদের ডিলারশিপ পেতে সমস্যা নেই।

কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ভোটার যে এলাকারই হোন না কেন, উপজেলার যেকোনো স্থানে ডিলার হতে পারবেন। উন্মুক্ত বাজারে চাল-আটা বিক্রি কর্মসূচি কিংবা টিসিবির ডিলারশিপ থাকলেও সার ডিলার হতে বাধা নেই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/