• মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আলেকান্দা সরকারি কলেজে ‘সাহিত্য পাতা’ আষাঢ় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্ন, স্তন অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু যানজটে আটকা পরে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু দুটি সড়কের বেহাল দশা, ধানের চারা রোপণ করে প্রতিবাদ স্ত্রীকে অমানুষিক নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল, অতঃপর মৃত্যু ববিতে নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশের দাবিতে স্মারকলিপি বাকেরগঞ্জে জাতীয় ছাত্রশক্তির আংশিক কমিটি গঠন বিএম কলেজে বার্ষিক সাময়িকী ‘অনুরণন’-এর মোড়ক উন্মোচন বরিশালের চন্দ্রমোহনে মাদক ও বিভিন্ন অনাচারমুক্ত সমাজ গঠনে সুধী সমাবেশ জাতীয় ছাত্রশক্তি বরিশাল মহানগরের কাউনিয়া থানা শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা, আহ্বায়ক অর্ণব, সদস্য সচিব মাসফি, মুখ্য সংগঠক জুয়াই রিয়া

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্ন, স্তন অপারেশনের পর যুবতীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপর এক যুবতীকে সাথে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। অপারেশনের কয়েক ঘন্টা পরে তার (লিজা) মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।

ঢাকার পান্থপথ গ্রীণ রোডের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশনের পর রবিবার (৬ সেপ্টম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে। ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যরা লাশ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।

সরেজমিনে এলাকাবাসী ও মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোজি আক্তার লিজা মেয়ে হলেও ছেলেদের মতো আচিরণ করতো। ছেলেদের মতো চুল কাটাতো। তার (লিজা) বাড়িতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামের এক যুবতীর আনাগোনা ছিলো। ওই যুবতীকে সে (লিজা) স্ত্রী হিসেবে মনে করতো। এমনকি ওই যুবতীও লিজাকে তার স্বামী হিসেবে দেখাশোনা করতো। স্থানীয়রা ধারনা করছেন, লিজার সাথে জেনিফার সমকামিতার সম্পর্ক ছিলো।

সূত্রমতে, গত প্রায় তিনবছর পূর্বে একই সম্পর্কে লিজা তার আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা পূনরায় বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর জেনিফার সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিজার পরিচয় হয়। এরপর থেকে জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসাথে বসবাস করতো। বিষয়টি লিজার বাবা ও মা জানলেও জেনিফা কৌশলে তাদের আপন করে নেয়ায় তারা মুখ বুঝে সব সহ্য করে গেছেন।

জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানিয়েছেন, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতো। একসাথে থাকতো। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতো। লিজার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালে সরফরাজ নাম দিয়ে লিজাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের পূর্বে সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে তিনি (জেনিফা) স্বাক্ষর করেছেন। মেয়ে হয়ে আরেকজন মেয়ের স্ত্রী পরিচয়ে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জেনিফা বলেন, লিজার মা ও বাবার সম্মতি নিয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে।

তবে মৃত রোজীর বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, সে (জেনিফা) যে স্বাক্ষর করবে, তার স্বাক্ষরে যে অপারেশন হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। এমনকি লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছে তা আজই কেবল জেনেছি। তিনি আরো বলেন, লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর (লিজা) মায়ের কাছে শুনেছি। আক্ষেপ করে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব বলেন, ঘরের যেকোন বিষয়ে আমার কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়না। ঘরের সকল সদস্যরা আমাকে আলাদা চোখে দেখে।

মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, আমার মেয়ে লিজা ছোট বেলা থেকেই কোন ছেলেকে পছন্দ করতোনা। তাকে জোরকরে দুইবার বিয়ে দেয়া হয়েছিলো। কোনখানেই সে (লিজা) সংসার করেনি। ছেলেদের সাথে সঙ্গ দেয়া কিংবা ঘর সংসার করার কোন মনমানসিকতাই তার ছিলোনা।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জেনিফা আমাদের বাড়িতে এসে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বেড়াতো। যেকারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব আমরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। এ ধরনের কর্মকান্ড ইসলাম সমর্থন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলাম সমর্থন করেনা জানি। তবে মোবাইলে এসব ঘটনা এখন শত শত দেখা যায়।

অপরদিকে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে দেখা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে (লিজা) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদপত্রে লিজার নাম সরফরাজ এবং পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদপত্রে দেওয়া হাসপাতালের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এডমিন পরিচয় দেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জিএম-এর সাথে কথা বলতে বলেন।

পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কৌশলে দায় এড়িয়ে যে ডাক্তারের অধীনে রোগী ভর্তি হয়েছে তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগের বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন। এরপর তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিফ করেননি।

ফলে এ ধরনের জেন্ডার পরিবর্তন করার অপারেশনের অনুমতি ওই হাসপাতালের রয়েছে কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খতিয়ে দেখে ওই হাসপাতালসহ জেন্ডার পরিবর্তনের অপারেশনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সচেতন নাগরিকরা জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/