• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মেহেন্দিগঞ্জে ৭ কিলোমিটার নদী তীরে স্থায়ী বাঁধের দাবি স্বাস্থ্য সেক্টর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আহবান প্রতিমন্ত্রীর স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন মেজর এম এ জলিল উপকূলীয় ট্যুরিজমের উন্নয়নে ‘চন্দ্রদ্বীপ রিভার ক্রুজ (দ্য সেইল)’ উদ্বোধন ববিতে গোপনে ছাত্রীদের আপত্তিকর ছবি ধারণ, শিক্ষার্থীর বিচার দাবিতে বিক্ষোভ বরিশালে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে বাউফলে ইউপি প্রতিনিধিদের সাথে স্থানীয় সাংসদের মতবিনিময় কলাপাড়ায় ঘাতক যুবদল নেতার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ বরিশাল শিক্ষা বোর্ড-এ এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ডে ৩০ হাজার ছেলের লিঙ্গ ‘ফিমেল’ বরিশালে সয়াবিনের আবাদ বেড়েছে, ইরি-বোরো ও রবি ফসল চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

মেহেন্দিগঞ্জে ৭ কিলোমিটার নদী তীরে স্থায়ী বাঁধের দাবি

মাহিমুল হাসান এমদাদ / ৪০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

মেহেন্দিগঞ্জে ৭ কিলোমিটার নদী তীরে স্থায়ী বাঁধের দাবি :ভাঙন ও জোয়ারের হুমকিতে কয়েক হাজার মানুষ, ঝুঁকিতে শত শত একর কৃষিজমি

বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরার থানা এলাকার আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখার হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার মেঘনার শাখা কালাবদর ও লতার নদীতীরবর্তী এলাকায় স্থায়ী নদী বাঁধ ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নদী ভাঙন ও জোয়ারের পানির হুমকিতে বসবাস করা কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে জনপদ, বিলীন হতে পারে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ও বসতভিটা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দারমানিক ইউনিয়নের একতার বাজার থেকে আলীখার হাট পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী এলাকায় কোনো স্থায়ী নদী বাঁধ বা টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই দুর্ভোগে পড়তে হয় আন্দারমানিক, আজিমপুর ও ভংগা গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে। নদীর তীব্র স্রোত ও জোয়ারের পানির চাপে আশপাশের অন্তত ৫ থেকে ৭টি গ্রাম সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, এই নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশই কৃষি ও মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। নদী ভাঙন ও জোয়ারের পানির কারণে তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, নদীর পানির চাপে প্রতিবছর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ একর কৃষিজমি ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে। বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি গ্রামে ঢুকে পড়লে আমন ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে চাষাবাদ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
একতার বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, বর্ষা এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। নদীর পানি গ্রামে ঢুকে পড়ে, ফসল নষ্ট হয়। কোথাও কোথাও নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী নদী বাঁধ নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
ভংগা গ্রামের আলীখার হাট এলাকার কৃষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এই ৭ কিলোমিটার এলাকায় একটি শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ নদী ভাঙন ও জোয়ারের পানির হাত থেকে রক্ষা পাবে। কৃষিজমিও নিরাপদ থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তীর রক্ষায় মাঝে মাঝে অস্থায়ীভাবে মাটি ফেলে বা বালুর বস্তা দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দেয় না। বরং বর্ষা মৌসুমে আবারও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।
এলাকাবাসীর মতে, একতার বাজার থেকে আলীখার হাট পর্যন্ত একটি স্থায়ী নদী বাঁধ ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে নদী ভাঙন রোধের পাশাপাশি জোয়ারের পানির প্রবেশও বন্ধ হবে। এতে রক্ষা পাবে বসতভিটা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এ বিষয়ে আন্দারমানিক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর দাবিটি যৌক্তিক এবং দীর্ঘদিনের। আন্দারমানিক ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর লিটন হাওলাদার বলেন, নদী ভাঙন ও জোয়ারের পানির কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে একতার বাজার থেকে আলীখার হাট পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী বাঁধ ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে অন্তত কয়েক হাজার মানুষ নদী ভাঙন ও জোয়ারের পানির ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে এই জনপদকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/