ভোলায় গাড়ল (উন্নত জাতের ভেড়া) পালনে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই খাত এখন নীরবে বদলে দিচ্ছে গ্রামীণ জীবনমান। ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের যুবক মো. ফিরোজ মাত্র ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে গাড়ল পালন শুরু করে এখন বছরে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করছেন।
স্বল্প বিনিয়োগে উচ্চ মুনাফা পাওয়া যাওয়ায় এটি একদিকে যেমন বেকারত্ব দূর করছে, তেমনি সমৃদ্ধ করছে স্থানীয় অর্থনীতি। ফিরোজের সফলতা দেখে এখন অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন গাড়ল পালনে।
ফিরোজ জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি ‘এগ্রো ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি খামারে গরু ও ছাগল পালন শুরু করেন। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে গাড়ল জাতের ভেড়া সম্পর্কে জেনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ভোলা গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার সহায়তায় তিনি ২৩ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬টি গাড়লের বাচ্চা সংগ্রহ করেন। তিন বছরের ব্যবধানে তার খামারে গাড়লের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০টি।
তিনি বলেন, ছাগলের তুলনায় গাড়ল অনেক বেশি লাভজনক। একটি গাড়ল জন্মের তিন মাসের মধ্যেই ৮ থেকে ১০ কেজি ওজন হয় এবং বিক্রির উপযোগী হয়। পূর্ণবয়স্ক একটি গাড়লের ওজন হয় ৬০ থেকে ৭০ কেজি পর্যন্ত। মাংসের কেজি বিক্রি হয় প্রায় এক হাজার টাকায়।
ফিরোজ আরও জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে সবুজ ঘাস, গম ও ভুষি খাইয়ে গাড়ল লালন-পালন করা হয়। বছরে গড়ে তিনি দুই লাখ টাকারও বেশি আয় করেন। তার পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে ২০০-৩০০ গাড়ল নিয়ে বড় পরিসরে বাণিজ্যিক খামার গড়ে তোলা।
ভোলা গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থার মনিটরিং কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোলা অঞ্চলের আবহাওয়া গাড়ল পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা খামারিদের চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছি। গাড়ল এখন অনেকের জীবিকা পরিবর্তনের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
ভোলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, “বর্তমানে জেলায় প্রায় ২৩ হাজার ভেড়া পালন করা হচ্ছে, যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই গাড়ল জাতের। গাড়ল পালন লাভজনক হওয়ায় আমরা খামারিদের উদ্বুদ্ধ করা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রেখেছি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প পুঁজি, দ্রুত বংশবৃদ্ধি ও মাংসের উচ্চ চাহিদার কারণে গাড়ল পালন এখন ভোলার গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
https://slotbet.online/