ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালীর কাছে না আসার সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং বলেছে যে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী লেবাননে ইসরাইলি কার্যক্রম এবং যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনে ওয়াশিংটনের ভূমিকাকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান তাদের প্রতিক্রিয়ার ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ যৌথ সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয় যে, যদি ‘আগ্রাসন’ অব্যাহত থাকে, তাহলে ইরান আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে এই নৌপথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।
ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ইরান অভিযোগ করে আসছে যে, ইসরাইল এখনও যুদ্ধবিরতির শর্ত পুরোপুরি মেনে চলছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং বাস্তবে ইরান কতটা কার্যকরভাবে এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এ রকম আরো সংবাদ...