হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে আরাফাত ময়দানের মসজিদে নামিরাহতে আরাফার খুতবা দিয়েছেন প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম শায়খ আলী আল-হুদাইফি। খুতবায় তিনি তাকওয়া অবলম্বন, আল্লাহর আদেশ মেনে চলা এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মঙ্গলবার ( ২৬ মে) বাংলাদেশ সময় বিকেল তিনটার পর দেওয়া এ খুতবার বিষয়ে সৌদি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
খুতবায় শায়খ আল-হুদাইফি বলেন, কিয়ামতের দিন প্রত্যেক মানুষকে তার আমলের হিসাব দিতে হবে। তিনি মুসলিমদের আল্লাহভীতি অর্জন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং পরকালের জবাবদিহিতার বিষয়টি সবসময় স্মরণে রাখার আহ্বান জানান। তিনি তাওহিদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরিক করা যাবে না এবং সব ইবাদত একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশেই হতে হবে।
শায়খ আল-হুদাইফি বলেন, হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের সংকট ও দুরবস্থা দূর করে দিন এবং সত্যের ওপর তাদের ঐক্যবদ্ধ করুন। আপনি তাদের সব বিষয়ের দায়িত্ব নিন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার সার্বিক অবস্থা কল্যাণময় করে দিন।
তিনি আরো বলেন, তাকওয়ার পথ হলো, নেক আমল করা এবং সব ধরনের পাপাচার ও মন্দ কাজ বর্জনের মাধ্যমে কেয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘তা এই জন্য যে, আল্লাহই সত্য এবং তিনিই মৃতকে জীবিত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান। আর এজন্য যে, কেয়ামত অবশ্যই আসবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই এবং কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন। পরকালের জন্য সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, তাওহিদের অনুসারী হওয়া, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদত না করা। মানুষ কীভাবে আল্লাহকে ছেড়ে এমন কিছুর ইবাদত করে বা তাকে ডাকে, যা তার কোনো ক্ষতিও করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না? এটাই তো চরম পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে এমন কিছুকে ডাকে যার ক্ষতি তার উপকার অপেক্ষা নিকটতর। কতই না নিকৃষ্ট এ অভিভাবক এবং কতই না নিকৃষ্ট এই সঙ্গী!’
এদিকে হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘উকুফে আরাফা’ পালনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ১৬ লাখের বেশি হাজি মঙ্গলবার ভোর থেকেই আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন। এ সময় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সৌদি আরবের পবিত্র আরাফাতের ময়দান। দিনব্যাপী গভীর ভক্তি, দোয়া, কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তারা।
সৌদি প্রেস এজেন্সি এবং আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিলহজ মাসের নবম দিনে ভোর থেকেই হাজিরা আরাফাতের ময়দানে প্রবেশ করতে শুরু করেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করে তারা আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইবাদতে মগ্ন থাকেন। ইসলামী ঐতিহ্যে আরাফাতে অবস্থানকে হজের কেন্দ্রীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা ‘উকুফে আরাফা’ নামে পরিচিত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “হজ মানেই আরাফা”- যা এই দিনের গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
ধর্মীয় আলেমদের মতে, আরাফার দিনটি রহমত, ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ইসলামী বর্ষপঞ্জির অন্যতম পবিত্র দিন হিসেবেও পরিচিত। ঐতিহাসিকভাবে এ স্থানটি ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। বিদায় হজের সময় ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এখানেই ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, যেখানে ন্যায়বিচার, সমতা এবং মানবাধিকারের বার্তা দেওয়া হয়।
আরাফাত মক্কা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত একটি বিশাল সমতলভূমি। এখানকার জাবালে রহমত পাহাড় হাজিদের দোয়া ও ইবাদতের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। এর আগে সোমবার হাজিরা মিনায় ‘তারবিয়ার দিন’ অতিবাহিত করেন, যেখানে তারা হজের পরবর্তী কঠিন পর্বের জন্য শারীরিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি নেন।
https://slotbet.online/