• বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের তিনটি আসনে জটিল সমীকরণ

স্টাফ রিপোর্টার / ২৫৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই জটিল সমিকরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বরিশালের নির্বাচনী আসনগুলোর হিসেব-নিকেশ। এরমধ্যে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রার্থীদের বৈধ ঘোষনার পর এবং আট দলে সমঝোতা না হওয়ায় জেলার ছয়টি আসনের তিনটিতে প্রার্থী নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে বিএনপি, জামায়াত এবং ইসলামী আন্দোলন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জটিল সমিকরণের তিনটি আসনের একটিতে রয়েছে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্য দুইটিতে দাঁড়িপাল্লা এবং হাতপাখার প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকায় ভোটের হিসেব নতুন করে কযতে হচ্ছে বিএনপিকে। পাশাপাশি আট দলে সমঝোতা না হওয়ায় টানাপোড়েন চলছে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে।

সূত্রমতে, বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ফলে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পরেছে বিএনপি।

এ ব্যাপারে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, বিগত ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছি। বিগত ওয়ান ইলেভেন থেকে শুরু করে বরিশাল-১ আসনে দলের চরম দুর্দীনে নেতাকর্মীদের পাশে থেকে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে অংশগ্রহণ করেছি। দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে নির্বাচনী আসনের অসহায় দুঃস্থ পরিবারের পাশে এবং প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব অর্থায়নে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি।

তিনি আরও বলেন-বিগত ১৭ বছর দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে সরব থাকায় আটটি মামলায় আসামি হয়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেছি। দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে যখন বঞ্চিত হয়েছি তখন দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে দলমত নির্বিশেষ সর্বস্তরের মানুষের অকুন্ঠ ভালবাসা ও জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছি।

নির্বাচনী আসনে ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন-নির্বাচনী মাঠে শেষপর্যন্ত থাকার জন্যই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রত্যাহার করার প্রশ্নই আসেনা উল্লেখ করে তিনি (সোবহান) বলেন-জনগন চাচ্ছেন ভয়ভীতি মুক্ত একটি সুষ্ঠু ভোট। সেখানে ফলাফল যাহাই হোক না কেন আমি মেনে নেবো।

জনগন কেন তাকে (ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহানকে ভোট দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন-আমি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী করিনা এবং কাউকে করতে দেবোনা। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার সকল ধর্মের মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্ত করবো। সকল ধর্মের লোকজন একত্রে মিলেমিশে সুখে শান্তিতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে চাই। কোন ধর্মের মানুষের ওপর কোনধরনের নির্যাতন হতে দিবোনা।

ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন-আমাকে নির্বাচিত করা হলে বিগত ২০০১ সালের মতো আর কাউকে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবেনা। রাজনৈতিক পরিচয়ে মবসৃষ্টি করে কোন ব্যক্তির ওপর অত্যাচার হতে দিবোনা। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়ার কোন মানুষের ক্ষতি হতে দিবোনা। নাগরিক সেবায় সর্বক্ষেত্রে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি দপ্তরগুলোয় ঘুষ বন্ধ করা, সরকারি সেবা পাওয়া সহজীকরণ ও বেকার সমস্যা সমাধানে নিজস্ব অর্থায়নে নানামুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিত্বে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।

এছাড়াও অতীতের ন্যায় ব্যক্তিগত অর্থায়নে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রতিটি মসজিদ, মন্দিরসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপসানালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেন, আমি সুখে-দুঃখে গৌরনদী ও আগৈলঝাড়াবাসীর সেবক হিসেবে সেবা করার সুযোগ চাই।

সবশেষে তিনি বলেন-ভোট একটি পবিত্র আমানত। তাই নিঃসন্দেহে প্রত্যেক ভোটারদের এলাকায় প্রার্থী সম্পর্কে জানা, তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ও অবদান কী। তাদের এলাকার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তাভাবনা কী এবং নির্বাচিত হলে শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজস্ব অর্থায়নে তাদের এলাকায় কাজ করার জন্য কতোটুকু সক্ষমতা আছে। এসব বিষয়ে বিশ্লেষন করে দলমত নির্বিশেষে প্রার্থী দেখে সকল ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য তিনি আহবান করেন।

অপরদিকে বরিশাল-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সাংসদ জহির উদ্দিন স্বপন ওমরা হজ্ব পালনের জন্য সৌদি আরবে থাকায় তার কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু বলেন-জনগন ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছেন।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত রাজিব আহসানের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। ওই আসনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির আবদুর জব্বার শক্ত প্রার্থী। একবছর আগে তাকে দল মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি মাঠ গুছিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির সাবেক এমপি মনোনয়ন বঞ্চিত মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এখন রাজিবের পক্ষে মাঠে না নামায় কিছুটা বেকায়দায় পরেছেন ধানের শীষের প্রার্থী।

বরিশাল-৫ (সদর) আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।

মহানগর ইসলামী আন্দোলনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি নাসির উদ্দিন বলেন, এ আসন চরমোনাই পীরের। জোটের অন্য কেউ এই আসন দাবি করতে পারেন না। জোট না থাকলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোটের মাধ্যমে ফয়জুল করীম বিজয়ী হবেন।

এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী আনোয়ারুল হক তারিন বলেন, আট দলীয় জোট নিয়ে আমাদের কোন মাথাব্যথা নেই। বরিশালবাসী এই আসনে বিগত সময়ে বিএনপির প্রার্থীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছেন, এবারও ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন বলে আমরা শতভাগ বিশ্বাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/