জাতীয় মাছ ইলিশ। আবেগ, ঐতিহ্য ও উৎসবের অপরিহার্য অংশ এই ইলিশ। কিন্তু সেই ইলিশের বাজার এখন দ্বন্দ্ব আর অস্পষ্টতার ঘেরাটোপে। প্রতিবেশী ভারতে ইলিশ রপ্তানির পরপরই দেশের বাজারে হুহু করে দাম বেড়ে গেছে। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, ভারতে রপ্তানি হওয়া ইলিশের দাম স্থানীয় বাজারের তুলনায় অনেক কম।
ভারতে প্রতি কেজি ইলিশ রপ্তানি হচ্ছে ১২ মার্কিন ডলার দরে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১ হাজার ৫২৫। কিন্তু বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্যবন্দরে রপ্তানিযোগ্য ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকায়।
এমনকি ছোট আকারের, রপ্তানির অযোগ্য ইলিশও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ টাকার ওপরে। কিন্তু বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ ঘাটতির কারণে আগে থেকেই ইলিশের দাম বেশি ছিল। রপ্তানির ঘোষণা আসার পর দাম বেড়েছে আরও।
বড় ইলিশে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা এবং খুচরো বাজারে প্রায় ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা কার্যত বঞ্চিত হচ্ছেন ইলিশের স্বাদ থেকে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বার্থে ইলিশ রপ্তানি জরুরি।
যখন দেশীয় ভোক্তা ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনছেন, তখন ভারতীয় ভোক্তা পাচ্ছেন ১ হাজার ৫২৫ টাকায়। তাতে করে ভোক্তা পর্যায়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
সরকারি যুক্তি হলো, সাধারণত স্থানীয় বাজারের চেয়ে কম দরে রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয় যাতে রপ্তানি সীমিত থাকে এবং দেশের বাজারে সরবরাহ বাড়ে।
কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টোটা। বাজার থেকে বেশি দামে কিনে কম দামে রপ্তানি করা হচ্ছে। ফলে ভোক্তা দিচ্ছেন অতিরিক্ত দাম, জেলে পাচ্ছেন সামান্য আর লাভবান হচ্ছেন মূলত রপ্তানিকারক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা।
এ রকম আরো সংবাদ...