• রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গণঅভ্যুত্থানের তথ্য বিশ্বমিডিয়ায় পৌঁছে দিতেন আদীব, গুমের চেষ্টা তিনবার মেহেন্দিগঞ্জ আরসি কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানের মতবিনিময় বরিশাল সাংবাদিক ফোরামের কমিটি গঠণ বিএম কলেজের বাণিজ্য ভবন মাঠে কচু গাছ রোপণ, শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী প্রতিবাদ জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বরিশালে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বরিশালের এমপি সরওয়ারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ফাঁকা মঞ্চে বক্তব্য দিলেন শিক্ষকরা, নেই একজন শিক্ষার্থীও বিএম কলেজে নানা আয়োজনে পালিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে প্রতারণা করলে পরিণতি ভালো হবে না: মুফতি ফয়জুল করীম গণ-অভ্যুত্থান কেবল কয়েকজন তরুণের আন্দোলন ছিল না: তথ্যমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানের তথ্য বিশ্বমিডিয়ায় পৌঁছে দিতেন আদীব, গুমের চেষ্টা তিনবার

তৌহিদুল ইসলাম রোহান / ২৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

গণভবনের গোপন নথিতে উঠে এসেছে তথ্য সমন্বয়ের অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পরও দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমে আন্দোলনের তথ্য পৌঁছে দিতে সক্রিয় ছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা ও সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম আদীব। গণভবন থেকে উদ্ধার করা একটি গোপন নথিতে তাঁকে বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা ও নেত্রনিউজের সঙ্গে আন্দোলনের তথ্য সমন্বয়ের অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গণভবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া নথির অনুলিপিতে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. আরিফুল ইসলামের মাধ্যমে বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা ও নেত্রনিউজে ছাত্র আন্দোলনের তথ্য প্রচার করা হতো। নথিতে তাঁর নামের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গণভবন থেকে বিভিন্ন নথি উদ্ধার করা হয়। এসব নথির মধ্যে মাঠপর্যায় থেকে তৎকালীন সরকারের কাছে পাঠানো বিভিন্ন প্রতিবেদনও ছিল বলে জানা গেছে। সেসব নথির একটিতে আদীবকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আন্দোলনের তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তৎকালীন সময়ে আরিফুল ইসলাম আদীব একটি জাতীয় দৈনিকে সাংবাদিকতা করতেন এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলন চলাকালে তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ১৮ জুলাই সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে আন্দোলনের বিভিন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করেন বলে জানান তিনি।

আদীবের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি, আলজাজিরা ও নেত্রনিউজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের কাছে আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের তথ্য পাঠাতেন তিনি। তাঁর দাবি, এ কারণেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে পড়েন তিনি।

আদীব জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। পরবর্তীতে নাহিদ ইসলামের পরিবার এবং আটক হওয়া তৎকালীন ছাত্রনেতা নুরুল হক নুরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। এ সময় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির হলরুমও বুকিং দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

আদীবের দাবি, নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁর বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। এরপর তাঁর কর্মস্থলেও যোগাযোগ করা হয় এবং চাকরিচ্যুত করার জন্য মালিকপক্ষ ও সম্পাদককে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, জুলাই মাসে তাঁকে তিন দফায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমবার ২২ জুলাই মিরপুরে তাঁর বাসায় ছদ্মবেশে পুলিশ যায়। এরপর ২৪ জুলাই বিবিসির কার্যালয়ের নিচ থেকে তাঁকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ ২৬ জুলাই ভোরে তাঁর কর্মস্থলে চারটি গাড়িতে করে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালায়। তবে সেসময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

আদীব জানান, ২২ জুলাইয়ের ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে তিনি আর বাসায় থাকেননি। সরকার শপথ নেওয়ার পর তিনি বাসায় ফেরেন।

বর্তমানে আরিফুল ইসলাম আদীব জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ঘোষিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

গণভবনের নথিতে উঠে আসা এসব তথ্য এবং আদীবের বক্তব্য জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় তথ্যপ্রবাহ, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আন্দোলনকারীদের ওপর নজরদারির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/