• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার বরিশাল আদালত ভবন থেকে পরে যুবকের মৃত্যু বরিশালে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা আদায় আন্তর্জাতিক ‘বঙ্গোপসাগর সংলাপে’ ববি’র পাঁচ শিক্ষার্থী নীতিবান নেতৃত্ব ও ইসলামী শিক্ষাই পারে সংকটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে: শায়খে চরমোনাই কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর

পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ বিশ্ব বাজারে

পিরোজপুর প্রতিনিধি / ১০৯ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

বোম্বাই জাতের মরিচ আবাদ সম্ভাবনাময় হয়ে উঠছে পিরোজপুরের উপকূলে। লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা এই মরিচের আবাদ বাড়িয়েছেন। গ্রামবাংলার চিরচেনা উঠান থেকে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে পণ্যটি যাচ্ছে বিশ্ববাজারে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার হাজারো পরিবার বোম্বাই মরিচ চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
স্থানীয়ভাবে ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত এই বিশেষ জাতের মরিচ এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডের মসলার বাজারে।
সূত্র জানায়, একসময় সংসারের প্রয়োজন মেটাতে বাড়ির আঙিনায় সীমিত পরিসরে মরিচ চাষ ছিল সাধারণ চর্চা। এক পর্যায়ে সেই চাষ রূপ নেয় বাণিজ্যিক উদ্যোগে। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি, কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা, বিলডুমুরিয়া গ্রামে এখন বোম্বাই মরিচের ব্যাপক চাষ হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, ঘৃতকুমারী জাতের মরিচের ফলন ভালো, ঘ্রাণ আকর্ষণীয় এবং ঝাল বেশি হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা তৈরি হয়েছে। মৌসুমে প্রতিটি মরিচ তিন থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি গাছ সাধারণত সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত ফলন দেয়। প্রতিটি গাছ থেকে ৪০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়।

ফলে অল্প জমিতেই ভালো আয় সম্ভব হওয়ায় এর চাষে কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। পতিত জমি নিবিড় ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এ মরিচের আবাদ করে লাভবান হচ্ছে।
আটঘর-কুড়িয়ানা গ্রামের কৃষক রঞ্জিত হালদার বলেন, আমাদের এই গ্রামের মরিচ এখন বিদেশে যাচ্ছে। জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাড়ি থেকেই মরিচ নিয়ে যান।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে চাষে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আমাদের গ্রামে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন এই মরিচ চাষ হচ্ছে। আমরা পরিচর্যা করলে এবং উন্নত বীজ ব্যবহার করলে, পাঁচ থেকে আট ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভ আরো বাড়বে। এই চাষে নারীদের অংশগ্রহণও বেশি।

আটঘর-কুড়িয়ানা গ্রামের কৃষাক সবিতা রানী বলেন,পরিবারের সবাই মিলে জমিতে কাজ করি। এই মরিচের আয়েই সংসারের অনেক খরচ চলে। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর অঞ্চল থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই রপ্তানির পরিমাণ বাড়ছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে বছরে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার ঘটিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এ মরিচের চাহিদা বাড়তে থাকায় তারা আরো বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। তবে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে রপ্তানির পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

গ্রামের উঠান বাড়ির পতিত জমিতে জন্ম নেওয়া একটি সাধারণ ফসল আজ আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের পরিচিতি বাড়াচ্ছে, পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচ যেন সেই সম্ভাবনারই উজ্জ্বল উদাহরণ। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার হাজারো পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তি আনছে বোম্বাই মরি।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, এই জাতের মরিচের উৎপাদন আরো বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবে এবং রপ্তানি আয় আরো বাড়বে। বোম্বাই মরিচ আবাদ সম্প্রসারণে কৃষি বিভাগ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/