বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের বানিজ্য ভবনের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ ও জনস্বাস্থ্য সংকট। বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই মাঠটি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানি জমে থাকার কারণে মাঠের ঘাস পচে গিয়ে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ, যা আশপাশের একাডেমিক পরিবেশকেও অস্বস্তিকর করে তুলছে। একই সঙ্গে জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠটির বিভিন্ন স্থানে স্থায়ীভাবে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এসব জায়গায় সবুজ ঘাসের পরিবর্তে কালচে পচা আবরণ দেখা যাচ্ছে, যা থেকে ক্রমাগত দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্লাস শেষে বা অবসরে এই মাঠে বসা বা হাঁটা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বানিজ্য ভবনের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই এই দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব সহ্য করতে হচ্ছে।
কলেজের শিক্ষার্থী সায়েম মাহমুদ বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এই মাঠ পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু এবার পানি দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকায় অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় পানি বের হওয়ার পথ নেই। এতে করে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারাও এই সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। দুর্গন্ধ ও মশার কারণে নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের দৈনন্দিন জীবনযাপনেও প্রভাব পড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকা যেকোনো খোলা জায়গা দ্রুত মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ধরনের স্থানে এডিস প্রজাতির মশা জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে, যা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। এছাড়া পচা জৈব পদার্থ থেকে নির্গত গ্যাস বাতাসের গুণগত মান নষ্ট করে, যা শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন,কলেজের ড্রেনেজসহ সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৪৯ কোটি টাকার একটি ডিপিপি মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি পাশ হয়ে আসলে আশাকরি ড্রেনেজ সহ কলেজের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব হবে। তার পরেও আমি বিষয়টি নিয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এর সাথে আলাপ করেছি। তিনি রবিবার বিএম কলেজ ঘুরে গেছেন। আর মাঠে পানি জমে থাকার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ইতোমধ্যে সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছি।
তবে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের মতে, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি। তারা দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবী জানান।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, অস্থায়ীভাবে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য পাম্প ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের জন্য আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, মাঠের ভূমি সমতলকরণ এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য উপযুক্ত নালা নির্মাণ জরুরি। প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশন সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মাঠটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করা, দুর্গন্ধ ও মশার উপদ্রব দূর করা এবং একটি স্বাস্থ্যকর ক্যাম্পাস পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি শুধু একটি মাঠের সমস্যা নয় বরং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
https://slotbet.online/