• সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার বরিশাল আদালত ভবন থেকে পরে যুবকের মৃত্যু বরিশালে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা আদায় আন্তর্জাতিক ‘বঙ্গোপসাগর সংলাপে’ ববি’র পাঁচ শিক্ষার্থী নীতিবান নেতৃত্ব ও ইসলামী শিক্ষাই পারে সংকটমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে: শায়খে চরমোনাই কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগর

৭ বছরে সমুদ্রগামী ২৫৯ জন জেলের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার / ৬৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জেলের কাছে মে দিবস এখনও তেমন পরিচিত নয়। তারা এ বিষয়ে আগ্রহীও নন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন সমুদ্রে ছুটে চলা এসব শ্রমজীবী মানুষ অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ত থাকেন মাছ ধরার কাজে। ফলে দিবসটির ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা খুবই কম।

উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার পশ্চিমে সুন্দরবন সংলগ্ন বলেশ্বর নদী, পূর্বে বিষখালী নদী এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। যাদের বলা হয় জেলে শ্রমিক। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রতিনিয়ত জীবিকা নির্বাহ করলেও তারা এখনও শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। জেলেদের ভাষায়, আমাদের কোনো দিবস নেই, আমরা শুধু কাজ করে খাই।

জীবন বাজি রেখে যারা প্রতিনিয়ত সমুদ্রে মাছ শিকার করেন, এমন কয়েকজন জেলের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা আক্ষেপ করে বলেন, মোগো মে দিবস নাই, মোগো কোনো দিবস নাই, মে দিবস আবার কী?

জেলে ফারুক হোসেন বলেন, সাগরে যাই দাদন নিয়ে মাছ ধরতে। মাছ পেলে ১৬ ভাগের ৮ ভাগ মালিকের, আর বাকি ৮ ভাগ ৮ থেকে ১৮ জন জেলের মধ্যে ভাগ হয়। বাজার-সদাইয়ের খরচ শেষে লাভ থাকলে টাকা পাই, না থাকলে কিছুই পাই না। এত কষ্ট করে মাছ ধরি, তবু আজ পর্যন্ত শ্রমিক হিসেবে আমাদের কেউ দেখে না।

অপর জেলে আবদুর জব্বার (৬৩) বলেন, ৪২ বছর ধরে সাগরে মাছ ধরি। জীবন বাজি রেখে পরিবারের মায়া ছেড়ে সাগরে যাই। কতবার যে ঝড়ে-জলোচ্ছ্বাসে পড়েছি, তার হিসাব নেই। এখন বয়স হয়েছে, তবুও জীবিকার জন্য সমুদ্রে যেতে হয়। তিনি মাছ ধরার পাশাপাশি জাল বুনার কাজও করেন।

আরেক জেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, দিবস দিয়ে কী হবে? কাজই বড়। কাজ না করলে খাব কী? সাগরে ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরি, আবার কূলে এসে জাল বুনি। সারাদিন জাল বুনে ৪০০ থেকে ৪৩০ টাকা পাই, তাও নিয়মিত না।

পাথরঘাটার ছগির হোসেন, আলতাফ মিয়া, হায়দার আলী, এমাদুলসহ অধিকাংশ মানুষই মৎস্য পেশার ওপর নির্ভরশীল। পরিবার-পরিজন ছেড়ে অনিশ্চিত সাগরে জীবন বাজি রেখে তারা মাছ শিকার করেন। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি)মৎস্য খাতের অবদান প্রায় ৩.৫০ শতাংশ। এত অবদান থাকা সত্ত্বেও মৎস্য শ্রমিকরা এখনও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত। এমনকি মে দিবসেও তাদের কোনো গুরুত্ব নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) গবেষক এস. এম. জাকির হোসেন বলেন, উপকূলের জেলেরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। কখনো জলদস্যুদের কবলে পড়ে প্রাণ হারান, কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে। কিন্তু এখনও তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, জেলেদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা নেই, সাগরে থাকাকালীন তারা ২৪ ঘণ্টাই কাজ করেন, তবুও তারা শ্রমিক হিসেবে গণ্য হন না।

উপকূলের জেলেদের অধিকার নিয়ে কাজ করা অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও গবেষক শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, মৎস্য খাতে শুধু মাছ ধরাই নয়, জাল বোনা, ট্রলার মেরামত, বরফ উৎপাদনসহ নানা কাজে হাজারো শ্রমিক জড়িত। জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকা সত্ত্বেও এই শ্রমিকদের বিষয়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা নীতিগত উদ্যোগ নেই। অনেক সময় ট্রলার ডুবে বা জলদস্যুদের হামলায় জেলেদের প্রাণহানি ঘটে।

তিনি আরও বলেন, শহরের গার্মেন্টস বা শিল্পখাতের শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, উপকূলের জেলেদের ক্ষেত্রে তা হয় না। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জেলেদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত ৭ বছরে বৈরি আবহাওয়ায় বরিশাল বিভাগে সমুদ্রগামী ২৫৯ জন জেলের মৃত্যু হয়েছে। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা আরও বেশি। এছাড়া একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১৮৮ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/