যাযাবর জীবন। জীবিকার তাগিদে চলমান সংসার; নদীর এক ঘাট থেকে আরেক ঘাটে। তবে মীরগঞ্জ ফেরিঘাটের পাশে আড়িয়াল খাঁর তীরে যে বেদে পরিবারগুলোর বাস, তাদের বিষয়টি অনেকটা আলাদা। টানা ১০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন তারা। সেই সুবাদে স্থানীয়দের সঙ্গে তাদের সখ্যতাও গড়ে উঠেছে।
পরিবারগুলোর অধিকাংশ শিশুই কখনো বিদ্যালয়ের মুখ দেখেনি। তবে এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুর প্রাথমিক লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় দুই নারী মোসাম্মৎ মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া গ্রামের মীরগঞ্জ ফেরিঘাটসংলগ্ন নদীতীরে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বাঁশ আর পলিথিনে তৈরি ছোট ছোট ঘর।
সব মিলে ৭০টি বেদে পরিবারের আবাস। পাশে নদীতীরে অবস্থিত একটি বাড়ির উঠানে বেদে শিশুদের পাঠদান করছেন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার।
বেদে পরিবারগুলোর কয়েকজন সদস্য জানান, প্রায় ১০ বছর আগে ওই স্থানে ভেড়ে তাদের বহরে থাকা নৌকাগুলো। ধীরে ধীরে তারা বেদেদের মূল পেশা ছেড়ে মাছ ধরা ও অন্যের জমিতে কাজ করতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহানুভূতিও পেতে থাকেন তারা। তাদের শিশুদের প্রাথমিক লেখাপড়ায় এগিয়ে আসেন মুন্নি আক্তার ও মিতু আক্তার। তারা জানান, প্রতিদিন বিকেলে নদীতীরে খোলা আকাশের নিচে ৫০ জন শিশুকে এক ঘণ্টা করে পাঠদান করছেন তারা। তবে এই উদ্যোগ টিকিয়ে রাখতে এখন প্রয়োজন উপজেলা প্রশাসনের সহায়তা। বেদে শিশুদের লেখাপড়ায় এগিয়ে আসা মুন্নি আক্তার বলেন, আমরা চাই বেদে শিশুরাও শিক্ষার আলো পাক।
কিন্তু পর্যাপ্ত পরিবেশ, বই ও শিক্ষা উপকরণের অভাবে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসন বা কোনো বেসরকারি সংস্থা সহযোগিতা করলে এই উদ্যোগ আরো বিস্তৃত করা সম্ভব।
বেদে নারী হেলেনা বিবি (৪০) বলেন, আমাদের জীবনে সংগ্রামই বাস্তবতা। বেঁচে থাকার জন্য শিশুরাও কাজে সাহায্য করে। তাদের পড়াশোনার আগ্রহ থাকলেও পরিবেশের কারণে তা সম্ভব হয় না। সরকার যদি সুযোগ করে দিত, তাহলে আমাদের সন্তানরাও শিক্ষিত হতে পারতো।
স্থানীয়রা জানায়, নদীতীরে অন্তত একটি ছোট ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হলে এবং প্রয়োজনীয় বই-খাতা ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হলে এই শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. শামীম হোসেন বলেন, মীরগঞ্জের বেদে শিশুদের শিক্ষার জন্য দুই নারীর এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনতে উপজেলা প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
https://slotbet.online/