• সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাগিং : শার্ট আর প্যান্ট খোল, মাস্টা*রবেশন কর”

মেহরাব হোসেন, ববি প্রতিনিধি / ৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরূদ্ধে ঐ বিভাগের এক নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে । গত বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের বাইরে টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর ও বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আল শাহারিয়ার মোহাম্মদ মুস্তাকিম মজুমদার। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, নাফিজ ফারদিন আকন্দ স্বপ্নীল, মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন, ইমন মাহমুদ, নেহাল আহমেদ ও মিরাজ। তারা একই বিভাগের ১০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে,“ গত ২৬ নভেম্বর, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমাদের ইমিডিয়েট সিনিয়রদের নির্দেশে রুপাতলী হাউজিং মাঠে উপস্থিত হই। আমরা মোট ২৮ জন শিক্ষার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলাম। পরে তারা আমাদেরকে রাত সাড়ে নয়টার বাসে করে টোল প্লাজার নিকট অবস্থিত ইমিডিয়েট সিনিয়র নেহাল ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় প্রবেশের পর আমাদেরকে তিনতলা কক্ষে উঠিয়ে গেট আটকে দেয়। এরপর আমাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে নেওয়া হয়। যাতে আমরা কোনো প্রমাণ রাখতে না পারি। তারপর আমাদের এক ব্যাচমেটকে ইন্ট্রো দেয়ার জন্য বলে, তখন রাত প্রায় সাড়ে দশটা বেজে যায়। আমি এক সিনিয়র ভাই কে বলি ভাই ১১ টায় তো আমাদের বাসার গেট বন্ধ করে দেয়। তারপর ওনি সবাইকে এ বিষয়টা বলে। এটা শোনার পর নেহাল ভাই আমাকে দাঁড় করিয়ে শামীম ভাই আর সপ্নীল ভাই এর হাতে তুলে দেয় র‍্যাগ দেয়ার জন্য। সপ্নীল ভাই তখন আমাকে জঘন্য ভাষায় কবিতা আবৃত্তি করতে দেয়। আমি না বললে আমাকে বলে “ যদি তুই আবৃত্তি না করিস তাহলে তুই মেন্টাল, তোর মাথায় সমস্যা,” আমার বাবা মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এগুলো শুনে আমার কান্না চলে আসে। আমার চোখে পানি দেখে শামীম ভাই বলে “তুই সিম্পেথি পাওয়ার জন্য কান্না করতেছোস। তাই তুই ফ্লোরে বসে ১০ মিনিট কান্না করবি এখন। তারপর আমাকে তারা কবিতার এক্সপ্রেশন করার কথা বলে, যেখানে আমাকে মেয়ে আর আমার দুজন সহপাঠীকে ছেলে ক্যারেক্টার বানায়, আমাদেরকে ফিজিক্যাল রিলেশনের অভিনয় করতে বলে। এটা আমি নিতে পারছিলাম না। তাই আমি বের হয়ে আসার চিন্তা করি। শামীম ভাই তখন লাঠি নিয়ে আসে আমাকে মারতে। নেহাল ভাই বলে, তুই যদি এ রুমের বাহিরে যাস তাহলে তোরে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলবো। তখন আমি আর কি করবো বাধ্য হয়ে হাঁটু গেরে শামীম ভাই এর কাছে মাফ চাই”।
লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, সপ্নীল ভাই আমাকে এক পায়ে দাড়াতে বলল, মিরাজ ভাই আর ইমন ভাই আমাকে ওয়ান কোয়ার্টার প্যান্ট দিয়ে বলল,” এটা পড়ে নাচ “ আমি তখন বলি ভাই আমি একটু ওয়াশরুমে যাবো প্রশ্রাব করতে। তারা আমাকে একটি বোতল দিয়ে বলে সবার সামনে রুমের মধ্যেই প্রশ্রাব কর। বহু কষ্টে আমি যখন ওয়াশরুমে যাই তখন সপ্নীল ভাই বলল “দরজা খোলা রেখে প্রশ্রাব কর”। কিন্তু আমি ওয়াশরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করেই অনেকক্ষণ কান্না করি। ওয়াশরুম থেকে বের হওয়ার পর স্বপ্নীল আর ইমন ভাই বলল “শার্ট আর প্যান্ট খোল, তারপর মাস্টারবেশন কর” । আমাকে তারা শীতের রাতে শেষ পর্যন্ত শার্ট খুলতে বাধ্য করে। এরপর স্বপ্নীল ভাই আমাকে একটা বিস্কিট দিয়ে বলে “কুকুরের মতো চেটে চেটে খা “ পরে আমি অনেক কান্না করি বসে বসে, এরপরও তারা আমাকে অনেক মানসিক নির্যাতন করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন বলেন,“আমরা জুনিয়রদের নিয়ে পিকনিক করছিলাম।ঐখানে একটু রাগারাগি হইছে।র‍্যাগিং দেয়া হয়নি”।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন,“ আমরা অভিযোগ পেয়েছি। র‍্যাগিং এর বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/