• সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক! হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে গোলাম নবী আলমগীরের সৌজন্য সাক্ষাৎ ‎লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে বরিশালে বাসদের বিক্ষোভ ‎নিরাপদ সড়কের দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দপদপিয়া সেতুতে বাস-থ্রি-হুইলার সংঘর্ষে ববি শিক্ষার্থী ইয়াসিনসহ নিহত ৩, জাতীয় ছাত্রশক্তির শোক দপদপিয়া সেতুতে বাস-থ্রি-হুইলারের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ববি শিক্ষার্থী সহ নিহত ২

আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন

দর্পন ডেস্ক / ৪৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬

বরিশাল বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদযাপন করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) জেলা সদর ও বরিশাল নগরী, পটুয়াখালী ও ভোলার কয়েকটি এলাকায় এই ঈদ উদযাপন করা হয়।
এসব গ্রামে বসবাসরত চট্টগ্রামের চন্দনাইশ শাহসুফি দরবার শরিফ, সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফ এবং আহমদিয়া জামাত অনুসারীরা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।

সকালেই এসব এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার তাজকাঠি, জিয়া সড়ক, টিয়াখালী, হরিনাফুলিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বন্দর থানার সাহেবের হাটে দুটি, বাবুগঞ্জ উপজেলায় চারটি, হিজলায় দুটি, মেহেন্দিগঞ্জে দুটি এবং বাকেরগঞ্জে একটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল বিভাগে এসব অনুসারীদের প্রায় ৭৫টি মসজিদ রয়েছে।

সকাল ৮টায় নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হরিনাফুলিয়া চৌধুরী বাড়ি শাহ সুফি মমতাজিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। পরে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কুরবানি সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে ভোলা জেলার পাঁচ উপজেলার ১৪টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার একদিন আগে বুধবার ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করেছে। বুধবার সকাল ৮টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী গ্রামের মজনু মিয়ার বাড়ির আঙিনায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মো. ইয়াছিন।

সুরেশ্বর দরবার পিরের মুরিদ রাশেদুল ইসলাম বাবু এ তথ্য জানিয়েছেন। ভোলা জেলার পাঁচ উপজেলার ১৪টি গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করবেন। তাই সকাল ৮টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী গ্রামে আমাদের নিজ বাড়ির আঙিনায় ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা মো. ইয়াছিন এই জামাতে ইমামতি করেছেন।

একই সঙ্গে গ্রামের চৌকিদার বাড়ির জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৮টায় এবং পঞ্চায়েত বাড়ির জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে জেলার বিভিন্ন জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে তজুমদ্দিন উপজেলার ছালাম মেম্বার বাড়ি, আব্দুল্লাহ মাঝি বাড়ি, লালমোহন উপজেলার লাঙ্গলখালীর পশ্চিম পাশে পাটোয়ারী বাড়ির জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ও রতনপুর গ্রাম; বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ও মুলাইপত্তন গ্রাম; তজুমদ্দিন উপজেলার শিবপুর, খাসেরহাট, চাঁদপুর ও চাঁচড়া গ্রাম; লালমোহন উপজেলার পৌর শহর, ফরাজগঞ্জ গ্রাম এবং চরফ্যাশন উপজেলার পৌর শহর, দুলারহাট, ঢালচর ও চর পাতিলা গ্রামের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার প্রতি বছর একদিন আগেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন।

সুরেশ্বর পীরের মুরিদ ছাড়াও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং ভান্ডারি শরিফ পিরের মুরিদ এসব পরিবারের সদস্যরা শতাধিক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন।

অপরদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম ঈদ উদযাপন করছে পটুয়াখালীর ৩৫টি গ্রামে ২৫ হাজার মানুষ। বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন পটুয়াখালী বদরপুর দরবার শরীফের মাওলানা আব্দুল গনি।

সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এখানকার গ্রামবাসীরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন আগে তারা ঈদ উদযাপন করেছিল। এবং আজ তারা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদুল আজাহা পালন করছে।

জেলার ৩৫ গ্রামের মধ্যে রয়েছে গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পারা, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুর।

ঈদের আনন্দ বয়ে যাচ্ছে ছোট বড় সবার মাঝে। এসব গ্রামের বাসিন্দারা হানিফি মাজহাব কাদেরিয়া তরিকা ভক্ত। তাদের বর্তমান পীর চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার হযরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/