• শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বিএম কলেজে শায়েখে চরমোনাই জুলাই শহীদের স্মৃতিচারণ ও দোয়া অনুষ্ঠিত বরিশাল জামেয়া ইসলামিয়া মাহমুদিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম আল্লামা ওবায়দুর রহমান মাহবুব (দাঃবাঃ) অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি সু-খবর পেলেন ছাত্রদলের সাবেক দুই নেতা বরিশালে হাম পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ, শিশুর মৃত্যু বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে ট্রলার ডুবি, উদ্ধার ১০ জেলে মেহেন্দিগঞ্জে উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বরিশালে হারিকেন মিছিল বরিশালে বোমা বিস্ফোরণে দগ্ধ হনুফা বেগম মারা গেছেন ৩৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ জন কে বাছাই, এসএসসিতে ফেল সবাই বরিশাল আদালত চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক!

নিষেধাজ্ঞা শেষ, ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি / ৭৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

পটুয়াখালীর তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বুধবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে। দীর্ঘ ৬০ দিনের বিরতি কাটিয়ে আবারও নদীতে নামার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন উপকূলীয় জেলাটির প্রায় ২০ হাজার জেলে। ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত ও জাল গোছানোর কাজ শেষ করে নদী তীরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

দেশের ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে ও জাটকা সংরক্ষণে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই জেলেরা পুনরায় মাছ শিকারে নামতে পারবেন।

সরেজমিনে পটুয়াখালীর বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ ছেঁড়া জাল সারছেন, কেউ ট্রলারে রং করছেন, আবার কেউ নৌকার ইঞ্জিন পরীক্ষা করে নিচ্ছেন। জেলেদের চোখে-মুখে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাজে ফেরার আনন্দ।

বাউফল ও সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী তীরের জেলে রহিম গাজী বলেন, ‘দুই মাস নদীতে নামি নাই। অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইছি। আশা করছি আজ রাত ১২টার পর নদীতে প্রচুর ইলিশ ও অন্যান্য মাছ পাব। মাছ বেঁচে ধার-দেনা শোধ করতে পারব।

তবে জেলেরা ক্ষোভের কথাও জানিয়েছেন। জেলে কবির মৃধা জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার থেকে চাল দেওয়া হলেও নগদ অর্থের অভাবে কিস্তি ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। তাদের দাবি, চালের পাশাপাশি কিছু আর্থিক সহযোগিতা দিলে জেলেদের জন্য আরও সুবিধা হতো।
জেলা মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত দুই মাস তেঁতুলিয়া নদীতে কঠোর নজরদারি চালানো হয়েছে। প্রতিদিন যৌথ অভিযানের মাধ্যমে কয়েক লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যার সুফল জেলেরা এখন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, জেলায় মোট নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৮০ হাজার, যার মধ্যে একটি বড় অংশ এই অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট এলাকায় কাজ করেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন জেলেদের জন্য ৪০ কেজি হারে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সঠিকভাবে নিষেধাজ্ঞা পালিত হওয়ায় নদীতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলেরা এখন নিয়ম মেনে জাল ফেললে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাবেন এবং গত দুই মাসের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/