• বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
আবাসনসংকটে ৪ সরকারি কলেজ, মেসের খরচে হিমশিম নিম্নবিত্তরা বিএম কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চাইলেন শিক্ষার্থীরা,আন্দোলন স্থগিত সেই অধ্যক্ষের পা ধরে ক্ষমা চাইলেন শিক্ষার্থী মেহেন্দিগঞ্জে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্সে সার ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার মাদকের আসর থেকে আটক সেই পুলিশ কর্মকর্তা পালালেন থানা হেফাজত থেকে ‘যার সঙ্গে মহব্বত, তার সঙ্গেই কিয়ামত’— সহবত এখতিয়ারের আহ্বান চরমোনাই পীরের সিটিস্ক্যান মেশিনে শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রামের ঘটনা তদন্তে কমিটি পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা, তাঁতিদল নেতা মানিক হাওলাদার গ্রেপ্তার

বিএম কলেজের ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার / ৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা প্রবাসী স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহতভাবে মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী ঝুমুর খানম সেতুর বিষপানে আত্মহত্যার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা করা হয়েছে।

মৃতের বোন মিতারা খানম বাদী হয়ে আগৈলঝাড়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আত্মহত্যার প্ররোচনা ও সহায়তা করার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামিরা হলো-বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মেধাবী ছাত্রী মৃত ঝুমুর খানম সেতুর প্রবাসী স্বামী গৌরনদীর চরগাধাতলী গ্রামের বাসিন্দা মৃত কাজী হারুন-অর রশিদের কুয়েত প্রবাসী ছেলে কাজী সাহাবুদ্দিন, তার মা রুনু বেগম, বোন শারমিন কাজী, নাজমিন কাজী ও তার স্বামী সাইদুল হাওলাদার।

আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের উত্তর শিহিপাশা গ্রামের মো. আব্দুল করিম খানের মেয়ে মিতারা খানমের দায়ের করা এজাহারে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সামাজিকভাবে ঝুমুর খানম সেতুর বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে সাইফা নামে চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে।

মৃতের স্বজনদের দাবি, বিয়ের পর থেকে আসামিরা ঝুমুরকে কারণে-অকারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই মধ্যে তিন বছর আগে কাজী সাহাবুদ্দিন কাজের সুবাদে কুয়েত যান।

পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিনের নির্দেশে তার মা, বোন ও বোন-জামাতা ঝুমুরের ওপর মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে তাদের নির্যাতন সইতে না পেরে গত ডিসেম্বর মাসে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে ঝুমুর বাবার বাড়িতে চলে আসে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন গত ৪ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে প্রবাসী সাহাবুদ্দিন ভিডিও কল দিয়ে ঝুমুরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিষপান করে আত্মহত্যার কথা বলে। ফলে স্বামীর অব্যাহত এ মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে সবার অজান্তে ঝুমুর বাবার ঘরে থাকা ঘাস মারার ওষুধ (বিষ) পান করে। 

মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে প্রথমে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ওই রাতেই বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৫ অক্টোবর দুপুরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝুমুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃতের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর রাতে বাবার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে ঝুমুরকে দাফন করা হয়েছে।

ঝুমুরের বাবা করিম খান জানিয়েছেন, বিয়ের সময় পর্যাপ্ত মালামাল না দেওয়া, পাঁচশ বরযাত্রীকে না আনাসহ এবং তার মেয়ে দেখতে সুন্দরী না হওয়ার অজুহাতসহ বিদেশে যাওয়ার সময় সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক না দেওয়ার কারণে সাহাবুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঝুমুরকে মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে করিম খান বলেন, এভাবে যেন আর কোন বাবা-মায়ের তার মেয়েকে হারাতে না হয়। আমি আমার মেয়ে ঝুমুরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/