বরিশালে অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পা ধরে ক্ষমা চাইলেন শিক্ষার্থীরা। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রাথমিক শাখা চালুর বিরোধিতায় আন্দোলন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান প্রশাসনের
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠার পর তাঁর কক্ষে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছেন আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে তাঁরা অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চান। এর আগে সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানে পুনরায় প্রাথমিক শাখা চালুর বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন অভিভাবকেরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর দাবিতে কিছু অভিভাবকের তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরা এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন। সোমবার বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও দেন তাঁরা। পরে অধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনা করতে গেলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাক্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।
মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা চান। এ সময় অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর বিষয়ে তিনি একমত নন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি তাঁদের পাশে থাকার কথা জানান এবং শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান বলেন, ‘গতকাল আমরা কলেজে পুনরায় প্রাথমিক শাখা চালুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করি। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিই। এ সময় প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে অভিভাবকেরা উসকানিমূলক কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে আমরা অধ্যক্ষের কক্ষে গেলে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন অধ্যক্ষ তপন কুমার স্যারের সঙ্গে আমাদের উত্তপ্ত বাক্বিতণ্ডা হয়। আজ সকালে আমরা তাঁর কাছে গিয়ে পা ধরে ক্ষমা চাই। স্যার আমাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন।’
দাইয়ান আরও বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তিনিও প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর পক্ষে নন। তিনি আমাদের আন্দোলনকে যৌক্তিক বলেছেন এবং পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আমাদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।’
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরে দাইয়ান বলেন, ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি জেলা প্রশাসকের বার্তা নিয়ে এসেছেন। জেলা প্রশাসন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে যৌক্তিক মনে করে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলন স্থগিত করে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের এ বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাই।’
দাইয়ান আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রাথমিক শাখা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হলে তা যেন প্রতিষ্ঠানের মূল কার্যক্রম থেকে পৃথকভাবে পরিচালিত হয়। এ জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের দাবিও জানান তিনি।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মামুন খন্দকারের কাছে স্মারকলিপি দেন অভিভাবকেরা। এতে ঘটনার তদন্ত করে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রাথমিক শাখা চালু রাখার দাবিতে একদল অভিভাবক আন্দোলন করছিলেন। অন্যদিকে শাখাটি বন্ধ রাখার দাবিতে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান, সিয়াম ও জান্নাতের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী অধ্যক্ষের কক্ষে আলোচনার জন্য যান। সেখানে অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে।
জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাঁদের আন্দোলনের কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক শাখা পুনরায় চালুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে পুনরায় প্রাথমিক শাখা চালুর কোনো সিদ্ধান্ত নেই। ২০২৪ সাল থেকে প্রাথমিক শাখায় ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, আপাতত সেই সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জনমত, অবকাঠামোগত সুবিধা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে।
এদিকে অধ্যক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আচরণের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অন্যদিকে প্রাথমিক শাখা চালু নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা জানিয়েছে শিক্ষা প্রশাসন।
https://slotbet.online/