স্থায়ী বেরিবাধ নির্মাণের দাবিতে ভোলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় ঘেরাও করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল দশটার দিকে শহরের জুগিরঘোল এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর কার্যালয় ঘেরাও করেন সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী কর্মসূচি পালনের পর অবশেষে কয়েকদিনের মধ্যেই স্থায়ী বেরিবাধ নির্মাণের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা ওই স্থান ত্যাগ করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, কয়েক বছর যাবত সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে ওই ইউনিয়নের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুম এলে ওই এলাকায় ভাঙ্গন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সেখানে কিছুটা বালির বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী ভাবে কাজ করা হয়। কিন্তু সেই কাজ এক দুই মাসের মধ্যেই নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
তাতে করে ক্রমাগত ভাঙ্গনের মুখে এরই মধ্যে ওই ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার এলাকা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা এত বেশি যে সেখানকার বেরিবাদের সোনিকটে নদী চলে আসছে।
আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেরি ভাত ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করতে শুরু করবে ওই ইউনিয়নের মানুষের বাসা বাড়িসহ ভোলার মূল ভূখণ্ডে। তাই কয়েকদিনের মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে চলতি বর্ষা মৌসুমে শিবপুর সহ পুরো ভোলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্দোলনকারীরা।
তারা বলছেন এর আগেও এ ধরনের আন্দোলনের মুখে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ীবাদ নির্মাণের একাধিক বার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু কোন আশ্বাসেই তা আলোর মুখ আদৌ পর্যন্ত দেখেনি ওই ইউনিয়নবাসী। তাই এবার কোন ধরনের মিথ্যা আশ্বাস তাদেরকে দমাতে পারবে না বলেও তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এমনকি কয়েক দিনের মধ্যে সিসি ব্লকের মাধ্যমে স্থায়ীবাদ নির্মাণ না করা হলে আগামীতে তারা এর চেয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি দেয়ারও ঘোষণা দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বলছেন, অত্র এলাকায় স্থায়ী বেরিবাদ নির্মাণে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন হওয়ার কথা রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গনের কবল থেকে শিবপুর সহ পুরো ভোলাকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়া উদ্দিন আরিফ।
তিনি বলেন, ভাঙ্গন তীব্রতা কমাতে অস্থায়ীভাবে সেখানে জিও ব্যাগ ও বালির বস্তা ফেলার কাজ অব্যাহত রয়েছে। তবে খুব শীঘ্রই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এ বর্ষা মৌসুমী সিসি ব্লকের মাধ্যমে ভাঙ্গন কবলিত পুরো এলাকায় স্থায়ীবাধ নির্মাণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
https://slotbet.online/