• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

বরগুনায় একদিনে পাঁচ লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি / ৩ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বরগুনায় ২৪ ঘণ্টায় পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একদিনে এতগুলো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সদর, পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৪ ঘণ্টায় এসব লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন বরগুনা পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা। এর মধ্যে তিনজনের ঝুলন্ত লাশ, একজনের গণপিটুনিতে মৃত্যু এবং একজন অটোরিকশাচালকের রক্তাক্ত লাশ সড়কের পাশে পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ডেমা গ্রামে ইব্রাহিম হোসেন কালু নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে জনতা।

পুলিশ জানায়, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার ওপর হামলার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে একদল লোক কালু ও তার এক সহযোগীকে ধাওয়া করে। মারধরের একপর্যায়ে কালুর মৃত্যু হয়। আহত সহযোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, কালুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

শনিবার সকালে সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকা থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক বলে দাবি করলেও পুলিশ বলছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

একই দিন সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকা থেকে ৯৩ বছর বয়সী সালেহা বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পুলিশ মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছে।

এদিকে বামনা উপজেলার কলাগাছি এলাকা থেকে এহসান (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

বামনা থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন খান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পুলিশ তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে।

অন্যদিকে শনিবার ভোরে পাথরঘাটা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশা চালকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, শুক্রবার রাতে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মিজানুর। গভীর রাতে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান। সকালে স্থানীয়রা সড়কের পাশে তার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। নিহতের পরিবারের দাবি, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. এনামুল হক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা বলেন, সব ঘটনাই তদন্ত করা হচ্ছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে। যেসব মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/