• রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন

মধ্যরাতেই সাগরে ফিরছেন জেলেরা

দর্পন ডেস্ক / ১৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আজ মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে সমুদ্রে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার উপর সরকারের আরোপিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা। রাত বারোটার সঙ্গে সঙ্গেই সাগরে জাল ফেলবেন জেলেরা। তাই সাগরযাত্রার শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা উপকূলের নিবন্ধিত প্রায় ৩ লাখ সামুদ্রিক জেলে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জাল বুনন থেকে শুরু করে ট্রলারে রং করা ও ট্রলার ধুয়ে মুছে পরিচ্ছন্ন করা সহ মাছ ধরার জাল এবং আনুসঙ্গিক সরঞ্জাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যেন দম ফেলার ফুসরত নেই তাদের। এদিকে অনেকে আবার আগে ভাগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবস্থান নিয়েছেন সাগর মোহনায়। তবে অবরোকালীন সময় বেশ কিছু অসাধু জেলের সমুদ্রে মাছ শিকার এবং অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের দৌরাত্ম্যে বিপুল পরিমানে ছোট মাছ ও রেনুপোনা ধ্বংস হওয়ায় আশানুরু মাছ না পাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন অনেক জেলে। তাই আগামী অবরোধকালীন সময়ে সাগরে প্রশাসনের টহল জোরদারের পাশাপাশি ট্রলিং ট্রলার বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন জেলেরা।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্য আড়ৎ সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মো ফজলু গাজী বলেন,দীর্ঘ ৫৮ দিন সাগরে মাছধরা বন্ধ থাকার পর ১১ জুন বৃহস্পতিবার রাত বারোটার পর থেকে সাগরে জেলেরা মাছ ধরতে নামবে। আমরা সবাই আশাবাদী চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাবো।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সাগরে মাছধরার নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যে রাতে শেষ। জেলেরা রাত বারোটার পর থেকে শুক্রবার গভীর রাতে সকল জেলেরা মাছ ধরতে নামবে। এবছর জেলের সরকারি নিয়ম মেনে সাগরে মাছধরা বন্ধ রেখেছে। এর শুফল এই জেলেরাই ভোগ করবে। তারা তাদের আশানুরূপ মাছ পাবে বলে দাবী করেন।
এদিকে বরগুনার পাথরঘাটাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলে আবারও গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। গত ১৪ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ১১ জুন দিবাগত রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট, মাছের আড়ত ও জেলেপল্লিতে ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। ট্রলার সংস্কার, জাল মেরামত, বরফ সংগ্রহ, ডিজেল মজুত ও খাদ্যসামগ্রী তোলার কাজ শেষ মুহূর্তে চলছে পুরোদমে।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে শত শত ফিশিং ট্রলার ইতিমধ্যে সাগরে যাত্রার জন্য প্রস্তুত। কোথাও ইঞ্জিন পরীক্ষা, কোথাও জাল তোলা, আবার কোথাও বরফ ও জ্বালানি ভর্তি করার ব্যস্ততা দেখা গেছে।
পাথরঘাটা উপজেলার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি মৎস্য খাত। উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মাছ ধরা, মাছ পরিবহন, আড়ত ব্যবসা, বরফকল, জাল তৈরি ও ট্রলার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। ফলে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ে পুরো উপকূলীয় অর্থনীতিতে।
নিষেধাজ্ঞার সময়ে অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েন। সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই ধারদেনা করে সংসার চালিয়েছেন।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের জেলে মাঝি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুই মাসের বেশি সময় সাগরে যেতে না পারায় পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন আশা করছি ভালো মাছ পাব এবং সংসারের অভাব কিছুটা দূর হবে।
গভীর সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি আবুল কালাম জানান, নিষেধাজ্ঞার সময় ট্রলারের ইঞ্জিন ও যন্ত্রপাতি মেরামত করা হয়েছে। জাল ঠিক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাত ১২টার পরই তাঁরা সমুদ্রে রওনা দেবেন।
নিষেধাজ্ঞা শেষে মাছের সরবরাহ বাড়বে এমন আশায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরাও। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকার ও আড়তদারেরা পাথরঘাটা ঘাটে আসতে শুরু করেছেন।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর জেলে ও ট্রলারমালিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ট্রলারগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন সবাই ভালো মাছ পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাসিবুল হক বলেন, সামুদ্রিক মাছের নিরাপদ প্রজনন ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছিল। অধিকাংশ জেলে নিয়ম মেনে চলেছেন। এর সুফল হিসেবে এবার মাছের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে ভোলার সমুদ্রগামী জেলেরা জাল নৌকা মেরামত সম্পন্ন করে উপকূলে অপেক্ষা করছে। রাত ১২ টার পরই এখানকার জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে জাবেন। তারা ট্রলারে খাবার, তৈল, আসবাবপত্র প্রস্তত করেছেন। এখন সাগরে যাওয়ার অপেক্ষা চলছে।

ভোলার চরফ্যাসনের জেলে রফিক মাঝি বলেন, ধার দেনা করে এবারও সাগরে যাচ্ছি। কাঙ্খিত ইলিশ না পেলে আমাদের খুব বিপদে পরতে হবে। তবে আশার খবরও সুনিয়েছেন তিনি। তা হচ্ছে এবার সাগরে অবৈধ জেলেরা মাছ শিকার করতে পারেনি। তাই জেলের জালে মাছ ধরা দেবে।

উল্লেখ্য, ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময় সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। জেলেদের দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৫ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞার সময় ৬৫ দিন থেকে কমিয়ে ৫৮ দিন করা হয় এবং বাংলাদেশ ও ভারতের জলসীমায় একই সময়ে তা কার্যকর করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/