সাড়ে ৩৪ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। বুধবার সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
আজকের সভায় মোট ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক।
উল্লেখ্য, বৈঠকে অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৬টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে অনুমোদন পায় ৯টি প্রকল্প। এগুলোর মধ্যে ৩টি নতুন, ৫টি সংশোধিত এবং ১টি সময় বৃদ্ধির প্রকল্প।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পদ্মা ব্যারেজের কল্যাণে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এই প্রকল্পের মেয়াদ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা থেকে খাল বা ক্যানেলের মাধ্যমে কৃষিজমিতে পানি সরবরাহ করা যাবে।
নদীর নাব্য রক্ষা, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ এবং মৎস্যসম্পদ উন্নয়নেও এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
খুলনা, ঢাকা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের ১৯টি জেলা এ প্রকল্পের আওতায় আসবে। হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থাপনাকে পুনরুজ্জীবিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে প্রকল্প নথিতে।
সুন্দরবনে স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা, যশোরের ভবদহসহ জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় পানি নিষ্কাশনের উন্নয়ন এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
এ প্রকল্পের মূল অংশ পদ্মা ব্যারেজ, যা ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো হিসেবে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট, ১৮টি আন্ডার স্লুইস, দুটি ফিশ পাস ও নেভিগেশন লক রয়েছে।
এ ছাড়া গড়াই অফ-টেক, চন্দনা অফ-টেক ও হিসনা অফ-টেক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এই মেগা প্রকল্পে। একই সঙ্গে ১১৩ মেগাওয়াটের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল ব্যারাজ থেকে ৭৬ দশমিক ৪ মেগাওয়াট এবং গড়াই অফ-টেক থেকে ৩৬ দশমিক ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রো পাওয়ার প্ল্যান্ট নির্মাণের কথা রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় গড়াই-মধুমতী নদীতে ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং এবং হিসনা নদী ব্যবস্থাপনায় ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজ করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কিলোমিটার এফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব, আন্তঃদেশীয় নদী ব্যবস্থাপনা, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে পানি বণ্টন নিয়ে বিভিন্ন ইস্যু রয়েছে। এর আগে প্রকল্পটি কয়েক দফা একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদিত হয়নি।
একই দিন পদ্ম ব্যারেজ ও ‘ছোটমনি নিবাস’ নির্মাণসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থান পেয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিদ্যুৎ খাতের কয়েকটি প্রকল্প। এছাড়া রয়েছে প্রতিরক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ আরও কয়েকটি খাতের একটি করে প্রকল্প। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৩টি ও সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে ৫টি।মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ছিল ১টি। এই ৯ প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা।
https://slotbet.online/