জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বরিশালের দুটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে দলীয় প্রতীক হাতপাখা নিয়ে ভোটে লড়বেন তিনি। নির্বাচনের পরিবেশ, প্রতিশ্রুতি ও ভোটের প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন বরিশার দর্পণের সঙ্গে। ভোট নিয়ে কিছু শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম মিরাজ হোসাইন
নির্বাচন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
দেখেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা সেটা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বলা যায় না। কারণ বিগত নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন বলেছে, ভোট সুষ্ঠু হবে। কিন্তু পরে কী হয়েছে আপনারা সবাই দেখেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বলা যায় না নির্বাচন সফল হবে কিনা।
জয়ের ব্যাপারে আপনি কতটুকু আশাবাদী?
আমি তো জনগণের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, এটাই আমার কৌশল। জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। জনগণ ভোট দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। ভোট দেয়ার আগ্রহ বাড়ছে। জনগণ আমাদের বক্তব্য গ্রহণ করছে। তারা এখন নতুন বন্দোবস্ত দেখতে চায়। পুরনো বন্দোবস্ত দেখতে চায় না।
নির্বাচিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?
আমি শিক্ষক। শিক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব থাকবে। চিকিৎসা খাতেও গুরুত্ব থাকবে। গরিব মানুষের অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেব। দুর্নীতি বন্ধের বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়াই আমার মূল লক্ষ্য। বিগত সরকারের আমলে আমরা দুর্নীতির মচ্ছপ দেখেছি। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় ক্যান্সার হলো এই দুর্নীতি। যদি আমরা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, তাহলে সব খাতেই উন্নয়ন হবে। সব খাতের উন্নয়নের বাধা হলো দুর্নীতি। আমরা যদি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করতে পারি, তাহলে দেশ কোথায় যাবে তা কেউ চিন্তাও করতে পারবে না। আমার প্রধান কাজ হবে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতগুলোর ওপর গুরুত্ব দেয়া বেশি জরুরি। কারণ খাদ্য ও চিকিৎসা হলো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এগুলোর উন্নয়নে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যিনি যে বিষয়ে বেশি অভিজ্ঞ তাদের নিয়ে আমি পরামর্শ করব। যারা অভিজ্ঞ তাদের নিয়েই উন্নয়নকাজ করব। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করব।
নির্বাচনী প্রচারণা কেমন চলছে, ভোটারের সাড়া পাচ্ছেন কেমন?
আমরা নির্বাচনী মাঠে আছি। এখনো কোথাও সমস্যার মুখোমুখি হইনি। তবে আমার কর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এখন সামনের দিনগুলোতে ভালোভাবে প্রচারণা চালিয়ে যেতে পারলেই হয়। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।






