• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস

মো: বাদল হোসেন, পটুয়াখালী / ১২০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

পটুয়াখালীতে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খেজুরের রস। খেজুর গাছিদের আর নেই আগের মতো ব্যস্ততা, নেই রস সংগ্রহের প্রতিযোগিতা যা একসময় শীতের সকালে গ্রামাঞ্চলে ছিল এক পরিচিত দৃশ্য। ক্রমেই কমে যাচ্ছে খেজুরগাছ, হারিয়ে যাচ্ছে রস সংগ্রহের পুরানো চিত্র।

পটুয়াখালীর বাউফল এলাকায় একসময় শীতের শুরুতেই খেজুরগাছ ‘ছিলানো’ অর্থাৎ গাছ কেটে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়তেন গ্রামের মানুষ। কে কার আগে রস পাবে, তা নিয়ে চলত প্রতিযোগিতা। খেজুরের রসে তৈরি হতো পাটালি গুড়, শিরড়, বিভিন্ন ধরনের পিঠা-পায়েসসহ নবান্নের নানা সুস্বাদু খাবার। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নবান্ন উৎসবে খেজুর রস ছিল অন্যতম আকর্ষণ।

কিন্তু এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যায় না। গ্রামগঞ্জে যেমন খেজুরগাছ কমে গেছে, তেমনি গাছিদের সেই পুরোনো কর্মচাঞ্চল্যও নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, সময়ের পরিবর্তনে এবং বিভিন্ন কারণের প্রভাবে আজ খেজুর রস প্রায় দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে।

২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডর ও পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় আইয়লায় দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। এতে অনেক খেজুরগাছও মারা যায়। পাশাপাশি কিছু ইটভাটার মালিক ইট পোড়াতে খেজুরগাছ ব্যবহার করায় গাছ দ্রুত কমে যেতে থাকে। স্থানীয়দের মতে, এসব কারণ এবং দীর্ঘদিনের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত ১৫-২০ বছরে খেজুরগাছের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।
 
একসময় হাজার হাজার খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করতেন গাছিরা। এখন সে সংখ্যা হাতে গোনা। ফলে রসের ওপর নির্ভরশীল গাছিরাও পেশা বদলে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন। খেজুর রসের অভাবে নবান্ন উৎসবও হারিয়েছে সেই আগের আমেজ।
 
অনেকের মতে, খেজুরগাছ রোপণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে খেজুর রস পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রামাঞ্চলের মানুষ আজও অপেক্ষায় থাকে শীতের সকালে রসের দেড়ায় মুখ ভিজিয়ে নবান্নকে বরণ করার সেই পুরানো আনন্দ ফিরে আসার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/