• বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার্থীর অকালমৃত্যুতেও টনক নড়েনি কলেজ প্রশাসনের!

আবির সিকদার, বিএম কলেজ প্রতিনিধি / ৫৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

বছরে লক্ষাধিক টাকা চিকিৎসা খাত বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হলেও সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নূনতম স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা নেই। গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে চরম অবহেলায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী রুমানা আক্তার সুমির অকালমৃত্যু ঘটে। নামমাত্র চিকিৎসক আর একটি চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রটির বাহিরে বিশাল বড় একটি সাইনবোর্ড থাকলেও সেখানে ওষুধ বা প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক কোনো ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ফি দিয়েও পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

 

​কলেজের হিসাব শাখার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেশন চার্জের সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চিকিৎসাকেন্দ্র খাতে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। কলেজের ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর হিসাব অনুযায়ী, বাৎসরিক প্রায় ৬ লাখ টাকা এ খাতে জমা হয়। কিন্তু বাস্তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে গেলে এক পিস প্যারাসিটামল, এন্টাসিড, অ্যান্টিহিস্টামিন, খাওয়ার স্যালাইন, অ্যান্টিসেপটিক বা সামান্য ব্যান্ডেজ পাওয়া যায় নাহ।

 

কলেজের কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে তাকে ​চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে বা দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স, হুইলচেয়ার, ট্রলি কিংবা স্ট্রেচারের পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

চলতি বছরের ​গত মে মাসে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন নামলে প্রশাসন সপ্তাহে তিন দিনের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগ দেয়। বর্তমানে কলেজের জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন কলা ভবন-২-এর নিচতলায় নামমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্রে ডা. নাইমা জান্নাত বসলেও সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাবে কেবল পরামর্শ ও চিকিৎসাপত্র দেওয়া ছাড়া তিনি আর কোনো সেবা দিতে পারছেন না।

 

​হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মেহেদী হাসান তানবীর আক্ষেপ করে বলেন, “এখানে যে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র আছে, তা অনেকেই জানে না। আর জেনে থাকলেও লাভ নেই, কারণ সেখানে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।”

 

একই ধরনের অভিযোগ জানান অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছাদিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গুরুতর অসুস্থ তো দূরে থাক। আমাদের শরীরের কোন অংশ কেটে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো নূনতম সেবলন, তুলা বা ব্যান্ডেজ পর্যন্ত এখানে পাওয়া যায় নাহ। তাহলে প্রতি বছর আমরা যে টাকা চিকিৎসা খাত বাবদ দিয়ে থাকি তা কোথায় ব্যয় হয়?”

 

​এ বিষয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. নাইমা জান্নাত বলেন, “প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে বর্তমানে শুধু ব্যবস্থাপত্র দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সদ্য বিদায়ী অধ্যক্ষের কাছে একাধিকবার প্রয়োজনীয় ঔষধ ও উপকরণ নিয়ে তাগিদ দেওয়া হলেও তা আলোর মূখ দেখেনি।”

 

​অন্যদিকে, বিএম কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী জাবের আহমেদ জানান, “চিকিৎসকের নিকট প্রয়োজনীয় মালামালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া হয়েছে। দ্রুতই অক্সিজেন সিলিন্ডার, স্ট্রেচার ও জরুরি ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/