বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর আলিমাবাদ ইউনিয়নে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি ও তথ্য গোপন করে সার ডিলারশিপ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিউটি বেগম নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আলিমাবাদ ইউনিয়নে ‘মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামে সার ও কীটনাশকের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন বিউটি বেগম। তবে তার আবেদনের সঙ্গে দেওয়া ট্রেড লাইসেন্সটি ভুয়া বলে দাবি করেছেন আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত বিধিমালা অনুযায়ী, একই পরিবারের কোনো সদস্যের ডিলারশিপ বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের দেওয়া খুচরা বিক্রেতার আইডি থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিউটি বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আলম খন্দকারের নামে ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নের জনতা বাজারে সার বিক্রির সাব-ডিলারশিপ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিউটি বেগম নিজ নামেও ভোলার কর্ণরোকপুর মোল্লা বাজার এলাকায় ‘মেসার্স জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পরিচালনা করছেন। ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নম্বর ৬১৭ বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভোলায় স্বামী ও নিজের নামে সার ব্যবসার সংশ্লিষ্টতা থাকা সত্ত্বেও এসব তথ্য গোপন করে মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে নতুন করে সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ জন্য বিউটি বেগম তার ভোটার ঠিকানাও পরিবর্তন করে মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে স্থানান্তর করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, গত ১৪ আগস্ট সার ডিলার নিয়োগের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর ২০ আগস্ট বিউটি বেগমের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন করা হয়। এরপর ২২ আগস্ট তারিখের একটি ট্রেড লাইসেন্স আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের একটি নাগরিক সনদও জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এত অল্প সময়ে ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র প্রস্তুত হওয়া নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, আলিমাবাদ ইউনিয়নে একাধিক ব্যক্তি সার ডিলারশিপের জন্য আবেদন করলেও অন্য জেলা থেকে আসা একজনকে দ্রুত ভোটার স্থানান্তরের মাধ্যমে ডিলারশিপের জন্য মনোনীত করায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিউটি বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য সবুজের শ্যালিকা। তিনি বিউটি বেগমের নামে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন এবং সার ডিলারশিপটি কার্যত তিনিই পরিচালনা করবেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সবুজ কথিত কাগজপত্রের বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলেন, “এটা আমার নিজের, আমিই করেছি।”
তবে আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, সংশ্লিষ্ট নম্বরে ইস্যু করা ট্রেড লাইসেন্সটি বিউটি বেগমের নামে নয়; সেটি অন্য একজনের নামে ইস্যু করা হয়েছে। বিউটি বেগমের নামে যে ট্রেড লাইসেন্স দেখানো হয়েছে, সেটি অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইউনিয়ন পরিষদের নথিতে বিউটি বেগমের নামে ওই ট্রেড লাইসেন্সের কোনো ডকুমেন্ট নেই বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দ্র শেখর বসু বলেন, “আমরা কাগজপত্র দেখে নিয়মমাফিক বিউটি বেগমের নাম সার ডিলারশিপের জন্য পাঠিয়েছি। তবে তার কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
এদিকে, সার ডিলার নিয়োগে ভুয়া কাগজপত্র বা তথ্য গোপনের অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে বিউটি বেগমের ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন, ট্রেড লাইসেন্স এবং ভোলায় তার ও তার স্বামীর নামে থাকা সার ব্যবসার লাইসেন্সের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার দাবি উঠেছে।
https://slotbet.online/